শিরোনাম
বৈশ্বিক পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকেরঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডির হাতে একক ক্ষমতাপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪ সমঝোতা, ২ অনুদান চুক্তি ও অভিপ্রায়পত্র সইতত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই: সালাহউদ্দিন১ সপ্তাহের মধ‍্যে গার্মেন্টস শিল্পে মজুরি বোর্ড: শ্রমমন্ত্রী‘মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই, বললে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে’ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপি অসতর্কভাবে শব্দচয়ন করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীউন্নত দেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীরবৈশ্বিক পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকেরঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডির হাতে একক ক্ষমতাপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪ সমঝোতা, ২ অনুদান চুক্তি ও অভিপ্রায়পত্র সইতত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই: সালাহউদ্দিন১ সপ্তাহের মধ‍্যে গার্মেন্টস শিল্পে মজুরি বোর্ড: শ্রমমন্ত্রী‘মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই, বললে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে’ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপি অসতর্কভাবে শব্দচয়ন করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীউন্নত দেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, সক্ষমতা বাড়াচ্ছে শোধনাগারগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৭:২৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সাল থেকে ভারতের ডিজেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে দেশটির ভূমিকা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিশ্ববাজারে ডিজেল রপ্তানিতে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে চায় ভারত। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ফলে ২০২৭ সাল থেকে ডিজেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ভারতের প্রভাব আরও বাড়বে বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের সংকটের মধ্যে ভারতের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে বিঘ্ন ঘটছে, বেড়েছে জাহাজ পরিবহনের খরচও। এমন পরিস্থিতিতে পরিশোধিত জ্বালানির বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে ভারতের গুরুত্ব বাড়ছে।

ভারতের তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বলেন, ‘আমরা শুধু নিজেদের চাহিদা মেটানোর জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও জ্বালানি পরিশোধন করতে পারব—এটি আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।’ ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৩০ কোটি টন জ্বালানি পরিশোধনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে।পরবর্তী সময়ে এই সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪০ কোটি টনে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সমুদ্রপথে ডিজেল রপ্তানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হয়ে উঠেছে ভারত। এ ক্ষেত্রে দেশটির ওপরে রয়েছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র।

উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলো ২০২৭ সালে সম্মিলিতভাবে বছরে আরও ১ কোটি ৬৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াবে। বিদ্যমান শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

দেশটির বৃহত্তম তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনের (আইওসি) চেয়ারম্যান এ এস সাহনি বলেন, শোধনাগারের সম্প্রসারণের ফলে ডিজেল রপ্তানির পরিমাণ বাড়বে। প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টন পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এর ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৮০ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (এইচপিসিএল) পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজস্থান রাজ্যে নতুন শোধনাগারটির সক্ষমতা বছরে ৯০ লাখ টন। শোধনাগারটি পুরোপুরি স্থিতিশীলভাবে চালু হলে আগামী বছর সেখানে প্রায় ৩০ লাখ টন ডিজেল উৎপাদিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বিকাশ কৌশল।

ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন আগামী বছর থেকে বছরে আরও ১৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় খান্না এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে, পূর্ব ভারতের নুমালিগড় শোধনাগারের সক্ষমতা আগামী বছরের মার্চে বছরে ৯০ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ডিজেল উৎপাদন বছরে আরও ৩০ লাখ টন বাড়বে।

রপ্তানির সুযোগ বাড়বে
ভারতের কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান, যেমন এইচপিসিএল, নিজস্ব খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের জন্য বেসরকারি কোম্পানির কাছ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি কেনে। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে এসব প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় বাজারের জন্য অন্য কোম্পানির কাছ থেকে কম জ্বালানি কিনতে হবে। ফলে বাড়তি জ্বালানি রপ্তানির জন্য উন্মুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ভারতের শোধনাগারগুলো বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যালের কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত করার উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পার্থক্য কাজে লাগিয়ে বেশি মূল্য পাওয়া যায়—এমন জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগও বাড়বে।

আরও পড়ুন

আরেক দফা নির্বাচন এড়াতে দলগুলোকে আহ্বান প্রেসিডেন্টের

বর্তমানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ও নায়ারা এনার্জি পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি করে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর দিকে গুরুত্ব দেয়। সম্প্রতি ভারতের জামনগরে রিলায়েন্সের বিশাল তেল শোধনাগার পরিদর্শনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতকে জ্বালানি পরিশোধনে একটি ‘পরাশক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বলেন, অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের সঙ্গে ভারতের জ্বালানির চাহিদাও বাড়বে। এই চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বড় সরবরাহকারী হয়ে ওঠাই দেশটির লক্ষ্য। সূত্র: রয়টার্স

ভোরের আকাশ/এম

শেয়ার করুন: