বিশ্বের বৃহত্তম আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক সদর দপ্তর মিশরে

মিশরের নতুন কৌশলগত সামরিক কমান্ড সদর দপ্তর ‘দি অক্টাগন’ উদ্বোধন করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মিশরের দাবি অনুযায়ী, এটি বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর। শনিবার (৪ জুলাই) উদ্বোধনের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে নিউ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাপিটালে এই বিশাল সামরিক কমপ্লেক্সটি নির্মিত হয়েছে। এটি মিশরের ‘নিউ রিপাবলিক’ পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য পুরোনো রাজধানীর অতিরিক্ত জনঘনত্ব ও নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরিয়ে নেওয়া।
মিশরীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২২ হাজার একর বা ৮৯ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই কমপ্লেক্সের মোট ফ্লোর স্পেস প্রায় ৪৭ লাখ বর্গমিটার। তাদের দাবি, আকারের দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের চেয়েও বড়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে AH-64 Apache হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন, সামরিক কুচকাওয়াজ, আলোকসজ্জা এবং ১১-গান স্যালুটের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সামরিক পোশাকে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট আল-সিসি।
‘দি অক্টাগন’ মোট ১৩টি সমন্বিত কৌশলগত ও লজিস্টিক জোন নিয়ে গঠিত। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই সদর দপ্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-সমর্থিত কমান্ড ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয়, সাইবার নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা একীভূত করা হয়েছে। এর ফলে আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বিত সামরিক অভিযান পরিচালনা সহজ হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, গাজা, লোহিত সাগর, পূর্ব ভূমধ্যসাগর, লিবিয়া সীমান্ত, সিনাই উপদ্বীপ এবং আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে মিশর তার সামরিক কমান্ড কাঠামোকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা