ইরানের প্রস্তাব নিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম। গত ৪৭ বছরে মানবতা ও বিশ্বের প্রতি ইরানের কর্মকাণ্ডের জন্য দেশটি এখনো ‘যথেষ্ট বড় মূল্য’ দেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার (২ মে) ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ট্রাম্প। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান।
এ বিষয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “এটা নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবো।” পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি কল্পনাও করতে পারি না এটি গ্রহণযোগ্য হবে। গত ৪৭ বছরে মানবতা ও বিশ্বের প্রতি তারা যা করেছে, তার জন্য এখনো যথেষ্ট বড় মূল্য দেয়নি।”
এর আগে চলতি সপ্তাহেই ইরানের আরেকটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। পাকিস্তানে এক দফা শান্তি আলোচনা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি তেহরানে কূটনীতিকদের জানান, কূটনৈতিক সমাধান কিংবা সংঘাত—দুটি পথের যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। তিনি বলেন, উভয় পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত রয়েছে ইরান।
ওয়াশিংটন বারবার বলেছে, এমন কোনো চুক্তি ছাড়া তারা সংঘাতের ইতি টানবে না, যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে। ফেব্রুয়ারিতে পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে হামলা শুরুর সময় ট্রাম্প এ লক্ষ্যকেই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, তেহরান পারমাণবিক ইস্যুর সমাধানের আগেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সর্বশেষ ১৪ দফা প্রস্তাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে—অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালির অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়া, ক্ষতিপূরণ প্রদান, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ করা। পাশাপাশি প্রণালিটির জন্য নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, “তারা যদি খারাপ আচরণ করে, তাহলে আমরা দেখব। এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা অবশ্যই আছে।”
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে জানিয়েছে—হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচলের জন্য ইরানকে কোনো ধরনের টোল প্রদান করলে জাহাজ পরিবহন কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। এতে করে প্রণালিটি ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শুক্রবার (১ মে) যুক্তরাষ্ট্র আরও জানায়, ইরানকে নগদ অর্থ, ডিজিটাল সম্পদ, অফসেট ব্যবস্থা, অনানুষ্ঠানিক লেনদেন, পণ্যভিত্তিক বিনিময়, এমনকি দাতব্য অনুদান বা ইরানি দূতাবাসে অর্থ প্রদান—সবই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে, ফলে তেহরান তার দুর্বল অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় তেল আয়ের বড় অংশ হারাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
ভোরের আকাশ/সু.পা