হরমুজের পর বাব আল-মান্দেব বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

হরমুজ প্রণালি বন্ধ এবং ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপের পর এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।বাহিনীটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য রপ্তানি করিডোরও প্রয়োজনে বন্ধ করে দেওয়া হবে। বুধবার (১৫ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির পথ হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, নয়তো সবার জন্যই বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসির এই হুমকির মাধ্যমে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের ব্যবহার করে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এমনটি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে নতুন একটি ফ্রন্ট তৈরি হতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বাব আল-মান্দেব কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিসহ আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের বড় একটি অংশ পরিচালিত হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার হুথিদের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সতর্ক করে জানান, সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এর ফলে জ্বালানির দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এর আগে হুথিরা ইয়েমেনের একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে। এর জেরে তারা সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়। এতে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হুথিরা এর আগেও বাব আল-মান্দেব প্রণালি ব্যবহার করে বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর তারা লোহিত সাগরে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। গোষ্ঠীটির দাবি ছিল, ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা
আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের অবসান’ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত।
বাহিনীটি আরও দাবি করেছে, ইরানে মার্কিন হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, রসদ, জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণকেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহ এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন রসদকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে, এতে সেখানে আগুন ধরে যায়। এছাড়া জর্ডানের আজরাক এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটির বিমান হ্যাঙ্গারগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। তাদের দাবি, জর্ডানের ওই ঘাঁটিগুলো থেকেই কয়েকটি মার্কিন হামলা পরিচালিত হয়েছিল।
এদিকে, বুধবার কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরানি হামলায় লক্ষ্যবস্তু হওয়া একটি স্থানের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে সেটি আইআরজিসির বিবৃতিতে উল্লেখ করা একই স্থাপনা কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সূত্র: রয়টার্স
ভোরের আকাশ/সু.পা