রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল কিনল যুক্তরাষ্ট্র

নতুন চুক্তির পর রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল কিনল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডিজেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেলের আমদানির এই চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ডিজেলের প্রথম চালান পাঠানো শুরু করেছে রাশিয়া। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর রয়টার্স।
ডিজেল আমদানির এই চুক্তির পর রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনের কিছু বিধান স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি, ডিজেলের দাম কমাতে ইউরোপীয় দেশগুলো জরুরি মজুত থেকে আরও জ্বালানি ছাড় না করলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
এলএসইজি শিপিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাল্টার পতাকাবাহী মাঝারি আকারের ট্যাংকার ‘আগিওই ফানেন্দেস’ গত ২২ অক্টোবর রাশিয়ার বাল্টিক সাগরীয় বন্দর প্রিমোরস্ক থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতি কম সালফারযুক্ত ডিজেল নিয়ে যাত্রা শুরু করে। আগামী ৭ নভেম্বর জাহাজটির যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে এই চালানের ক্রেতা ও বিক্রেতার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২২ সালে রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করার পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে রুশ ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে।
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, দুই দেশের কোম্পানিগুলো সরবরাহ চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ করছে। এর পর আরও চালান পাঠানো হবে।
এই চুক্তির অংশ হিসেবে ডিজেল রপ্তানির ওপর রাশিয়ার নিজস্ব আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে ৩ লাখ মেট্রিক টন বা ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং ‘এর পরপরই’ আরও ১০ লাখ টন রপ্তানি করা হবে।
নোভাকের ভাষ্য, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি বাড়িয়ে আগের স্বাভাবিক মাত্রায় (মাসে ৩০ লাখ থেকে ৩৫ লাখ মেট্রিক টন) নিয়ে যেতে পারবে।
এলএসইজি শিপিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে রাশিয়ার বাল্টিক সাগরীয় বন্দর প্রিমোরস্ক থেকে কয়েকটি জাহাজে ডিজেল তোলা হয়েছে। তবে সেগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য এখনো স্পষ্ট নয়। বেশির ভাগ ট্যাংকারের গন্তব্য হিসেবে জিব্রাল্টার, আটলান্টিক উপকূল কিংবা পোর্ট সাঈদের নাম দেখা গেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পরিশোধিত তেলজাত পণ্য আমদানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকে রাশিয়া মূলত ব্রাজিল, তুরস্ক ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ডিজেল রপ্তানি করে আসছে।
ভোরের আকাশ/ এনউব