যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ইরানী জনতার উদ্দেশে ফাতেমা মোহাজেরিনির বার্তা

ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন এখন যুদ্ধবিরতি চলছে। ইসলামিক সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরিনি এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানের সাধারণ জনতার জন্য একগুচ্ছ বার্তা দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে অনেকগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করেন ফাতেমা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইরানের স্টুডেন্ট নিউজ এজেন্সি (এসএনএন) এক প্রতিবেদনে এই বার্তা প্রকাশিত হয়। সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা বলেন, নেকা অঞ্চলে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট মাত্র ৯৯ দিনে চালু করা হয়েছে যা একটি উল্লেখযোগ্য প্রকৌশল সাফল্য। তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ বা পানির সংকট এড়াতে যারা অবকাঠামো সচল রেখেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানানো উচিত।
শ্রমিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা : তিনি ইরানি শ্রমিকদের প্রশংসা করে বলেন, যুদ্ধ ও বোমাবর্ষণের মধ্যেও যারা উৎপাদন চালু রেখেছেন (পানি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে) তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি হাসপাতালের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজকেও সম্মান জানান ফাতেমা। তিনি আরও বলেন, কিছু শিল্পক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাই আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে সব শ্রমিককে বিশেষ শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে।
শিক্ষা ও ক্ষয়ক্ষতি : ১৬টি স্কুল সম্পূর্ণ ভেঙে পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ফাতেমা মোহাজেরিনি। অন্যান্য স্কুল ৫ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চূড়ান্ত পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।
ইন্টারনেট ও যোগাযোগ : মুখপাত্র বলেন, ইরান সরকার যোগাযোগ বৈষম্যের বিরুদ্ধে। তবে সংকটকালীন সময়ে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বজায় রাখতে ইন্টারনেট প্রো ব্যবস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিল দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ইন্টারনেট ব্যবস্থাও পরিবর্তন করা হবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, এই সময়টিকে অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্মগুলোর উন্নতির সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গণমাধ্যম ও কর্মসংস্থান : সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় (গাইডেন্স) মিডিয়াসহ বিভিন্ন সফট সেক্টরে চাকরি রক্ষা করতে বিশেষ পরিকল্পনা করছে।
খাদ্য সরবরাহ ও অবরোধ প্রসঙ্গ : নৌ অবরোধ নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় মুখপাত্র বলেন, জনগণকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো সংকট নেই। তিনি জানান, দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ খাদ্য দেশেই উৎপাদিত হয় তাই সরবরাহে বড় সমস্যা নেই। তবে ভোক্তা আচরণ উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর জোর দেন।
আবাসন ও পুনর্গঠন : বেসরকারি খাতে ১৮,১৮০টি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত। সংস্কার কাজ শেষ হতে ৬ মাস থেকে ২ বছর সময় লাগতে পারে
পরিবহন ও অর্থনীতি : অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ভাড়া বাড়ানো হবে না তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভাড়া বৃদ্ধি স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন ফাতেমা। তবে এসব ভাড়ার বিষয়ে তদারকি বাড়ানো হবে।
নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সমন্বয় : তিনি বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। এছাড়া, দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাঠামোর প্রধান হিসেবে পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা