হান্টায় সংক্রামিত ক্রুজ জাহাজ পৌঁছেছে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে , সরানো হচ্ছে যাত্রীদের

প্রাণঘাতী হান্টা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত একটি ক্রুজ জাহাজ স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছেছে। জাহাজটিতে থাকা প্রায় ১৫০ জন আরোহীর বেশিরভাগকে নিজ নিজ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে সাগরে থাকা ডাচ পতাকাবাহী এমভি হন্ডিয়াস রোববার (১০ মে) স্পেনের গ্রানাদিয়া বন্দরে পৌঁছায়।
স্পেনের সিভিল গার্ডের একটি জাহাজ নিরাপত্তা দিয়ে এটিকে বন্দরে নিয়ে আসে। সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সেবা ভেসেলফাইন্ডারের তথ্যেও বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। যাত্রী ও কিছু ক্রু সদস্যকে জাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর এটি নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। এ পর্যন্ত জাহাজটিতে হান্টা ভাইরাসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক ডাচ দম্পতি ও এক জার্মান নারী। এছাড়া আরও কয়েকজন এই বিরল ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে হান্টা ভাইরাস ছড়ায়। তবে পরীক্ষায় আক্রান্তদের শরীরে ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’ শনাক্ত হয়েছে, যা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে সংক্রমিত হতে পারে। এ কারণে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারি প্রস্তুতি ও প্রতিরোধবিষয়ক পরিচালক মারিয়া ভ্যান কেরখোভে বলেন, জাহাজে থাকা সবাইকে উচ্চ ঝুঁকির সংস্পর্শে রয়েছে বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষ ও ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের জন্য ঝুঁকি কম বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিসুসও শনিবার স্পেনে পৌঁছান। তিনি যাত্রী সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম তদারকি করবেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “এটি আরেকটি কোভিড নয়।” তেনেরিফের বাসিন্দাদের সহযোগিতা ও সংহতির জন্যও ধন্যবাদ জানান তিনি।
রোববার ভোরে গ্রানাদিয়া বন্দরে সাদা তাঁবু স্থাপন এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে দেখা যায়। পুলিশ বন্দর এলাকার একটি অংশ ঘিরে রাখলেও আশপাশে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল। কেউ সমুদ্রসৈকতে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ বাজার বা ক্যাফেতে যাচ্ছেন।
স্থানীয় লটারি বিক্রেতা ডেভিড পারাদা বলেন, “ঝুঁকি থাকতে পারে, তবে মানুষকে খুব বেশি উদ্বিগ্ন মনে হচ্ছে না।”
আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটিকে সরাসরি বন্দরে ভিড়তে দেওয়া হয়নি। এটি উপকূলের বাইরে অবস্থান করবে। রোববার থেকে সোমবারের মধ্যে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ সম্পন্ন হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আটটি সন্দেহভাজন ঘটনার মধ্যে ছয়টি ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে জাহাজে নতুন কোনো সন্দেহভাজন রোগী নেই। জাহাজটি কেপ ভার্দে থেকে এসেছে, যেখানে সপ্তাহের শুরুতে আক্রান্ত তিনজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
স্পেনের স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাত্রীদের স্থানীয় জনগণের সংস্পর্শে আসতে দেওয়া হবে না। তাদের নিজ নিজ দেশের ভিত্তিতে আলাদাভাবে পাঠানো হবে এবং যাতায়াতের পথ সম্পূর্ণ সিল করে রাখা হবে।
এদিকে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে জাহাজ থেকে নামা যাত্রী ও তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু করেছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা