শিরোনাম
আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর, অভিযুক্ত ড্যাব নেতার পদ স্থগিতভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে ইসিস্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৩৯গুলিস্তানে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, ফের দখল করলে গ্রেপ্তারদেশে ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৮২ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে, উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেইচালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানআইইডিসিআর পরিচালককে মারধর, অভিযুক্ত ড্যাব নেতার পদ স্থগিতভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে ইসিস্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৩৯গুলিস্তানে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, ফের দখল করলে গ্রেপ্তারদেশে ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৮২ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে, উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেইচালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খান

হরমুজ প্রণালিতে মানবিক করিডোর চালুর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ মারাত্মক সংকটে পড়েছে। যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষগুলোর ওপর। এই পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘মানবিক করিডোর’ খোলার জোর দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা।

ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) জরুরি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট বব কিচেন বলেন, হরমুজ প্রণালিতে মানবিক করিডোর নিয়ে গুরুতর ও জরুরি আলোচনার সময় হয়েছে। অন্তত আমরা যাতে মানবিক কেন্দ্রগুলোতে আটকে থাকা জরুরি সামগ্রীগুলো গন্তব্যে পাঠাতে পারি।

তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, পরিস্থিতি যদি এভাবেই চলতে থাকে, তবে অনেক হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সচল রাখতে আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ রাখতে হতে পারে।

তেলের উচ্চমূল্য কেবল সাধারণ মানুষের জীবনই দুর্বিষহ করছে না, বরং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মতো সংস্থাগুলোর কার্যক্রমকেও বাধাগ্রস্ত করছে। সংস্থাটির পরিচালক সিসিল তেরাজ বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি মানুষের জীবন এবং আমাদের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল। বর্তমানে এর দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১১ ডলার। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, খাদ্য, সার ও ওষুধের সরবরাহ কমেছে এবং ব্যয় বেড়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের গ্লোবাল সাপ্লাই ডিরেক্টর উইলেম জুয়েডমা বলেন, আমরা দুই দিক থেকেই চাপে আছি। একদিকে বিশ্বনেতারা সহায়তার বাজেট কাটছাঁট করছেন, অন্যদিকে সংঘাতের কারণে খাদ্য ও প্রতিটি ওষুধের কিটের দাম বাড়ছে।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলার বাড়লে তাদের শিপিং, জ্বালানি ও খাদ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার খরচ হয়। তেলের দাম ১০০ ডলারের আশেপাশে থাকলে এ বছর সংস্থাটির অতিরিক্ত ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার খরচ হবে।

ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩ কোটি ১৮ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এর বাইরে আরও ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ নতুন করে চরম খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। ডব্লিউএফপির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেলের দাম বাড়ার ফলে আগামী মাসগুলোতে বিশ্বের প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে না।

পরিবহন সংকট কতটা ভয়াবহ, তা বোঝা যায় ডব্লিউএফপির খাদ্য পরিবহনের উদাহরণে। ভারতের মুম্বাই বন্দর থেকে ওমান হয়ে লোহিত সাগর দিয়ে সুদানে পণ্য পরিবহনের প্রচলিত পথটি এখন আর নিরাপদ নয়। ঝুঁকি এড়াতে এখন জাহাজগুলোকে কেপ অব গুড হোপ হয়ে ভূমধ্যসাগর ও সুয়েজ খাল দিয়ে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এতে পথ বেড়েছে ৯ হাজার কিলোমিটার এবং সময় লাগছে কয়েক সপ্তাহ বেশি।

আরও পড়ুন

ইরানকে টোল দিতে চায় না মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ

আফগানিস্তান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ার মতো দেশগুলোতেও খাদ্য ও ওষুধের খরচ বহুগুণ বেড়েছে। বাংলাদেশে ব্র্যাক জানিয়েছে, জ্বালানির সংকটের কারণে তাদের কর্মীরা সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করছেন, যা শরণার্থী এলাকায় তাদের সেবার সময় কমিয়ে দিচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্সি কোরের নিক জোনস-ব্যানিস্টার। তিনি জানান, বিশ্বের প্রায় ৪৫ শতাংশ বীজ ও সার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। সারের অভাবে কৃষকরা ফসল ফলাতে ব্যর্থ হলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তিনি বলেন, ‘এর প্রভাব পড়বে গৃহযুদ্ধ ও অভিবাসনের ওপর।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ভোরের আকাশ/নি

মানবিক করিডোরইরান ও যুক্তরাষ্ট্রহরমুজ প্রণালি

শেয়ার করুন: