ইউরোপ চাইলে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করে জানিয়েছেন যে ইউরোপের সঙ্গে কোনো সংঘাত বা যুদ্ধ জড়ানোর ইচ্ছা রাশিয়ার নেই, তবে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে এবং ইউরোপ চাইলে মস্কো যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যদি কোনো কারণে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে আধুনিক সমর সক্ষমতার কারণে কোনো পক্ষই বিজয়ী হতে পারবে না
নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের পর পুতিন বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের উদ্যোগকে সমর্থন করে রাশিয়া। তবে উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছানো উচিত নয়, যার পরিণতি কারও জন্যই ভালো হবে না।
পশ্চিমা দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে; এমন প্রেক্ষাপটে পুতিন বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত, তবে ইউরোপের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ চাই না। তবে তাদের কেউ যদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, তাহলে নিতে পারে। আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছিলেন পুতিন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছি না। তবে ইউরোপ যদি হঠাৎ আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা শুরু করে, তাহলে আমরা এখনই প্রস্তুত।’
বৃহস্পতিবার পুতিন আরও বলেন, রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ হলে কোনো বিজয়ী থাকবে না।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন পুতিন। তার দাবি, ইউরোপীয় নেতারাই এ ফোনালাপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আলোচনাকে সঠিক পথে একটি পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, গ্রীষ্মে ফাঁস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ন্যাটোর দৃঢ়তা যাচাই করতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জোটটির পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, বাল্টিক অঞ্চলের কোনো দেশে সীমিত স্থল অভিযান অথবা পূর্ব ইউরোপজুড়ে সাইবার হামলার মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়াতে পারেন পুতিন।
যদিও ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ না চাওয়ার কথা বলছেন রুশ প্রেসিডেন্ট, তবে অভিযোগ রয়েছে, কয়েক মাস ধরে ড্রোনসহ বিভিন্ন ধরনের ‘হাইব্রিড’ হামলার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশ ও ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া যাচাই করছে মস্কো।
ভোরের আকাশ/আ.র