যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত ১২

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও লেবাননজুড়ে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। বৃহস্পতিবারের এসব হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও একজন প্যারামেডিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
হামলার একদিন আগেই রাজধানী বৈরুত-এর দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর এক কমান্ডারকে হত্যা করে ইসরাইলি বাহিনী। যুদ্ধবিরতির পর এই এলাকায় এটিই ছিল প্রথম বড় ধরনের হামলা বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক বিবৃতিতে বলা হয়, নাবাতিয়েহ জেলায় তিনটি গ্রামে পৃথক হামলায় মোট ১১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
অন্যদিকে মারাজায়ুন জেলায় আরেকটি হামলায় হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট ইসলামিক হেলথ কমিটির একজন প্যারামেডিক নিহত হন এবং আরও একজন আহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
একই দিনে নাবাতিয়েহ জেলায় আরও একটি হামলায় ওই সংগঠনের দুই প্যারামেডিক আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি লিতানি নদীর উত্তরে তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী, যদিও ওই অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বাইরে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের আগের দিনের হামলায় হিজবুল্লাহর অভিজাত ‘রাদওয়ান ফোর্স’-এর এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করা কোনো সন্ত্রাসীই নিরাপদ নয় এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা থামেনি। চলমান পরিস্থিতিতে নতুন করে বিমান হামলা লেবাননে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা