মুসলিম গণহত্যার যুদ্ধাপরাধী ম্লাদিককে সার্বিয়ার সামরিক সম্মান

বসনিয়ার মুসলিমদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যা চালানো যুদ্ধাপরাধী সার্বিয়ান জেনারেল রাতকো ম্লাদিককে সামরিক মর্যাদা দিয়েছে সার্বিয়া। ৮৪ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কারা হাসপাতালে মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নেদারল্যান্ডসের হেগ থেকে সার্বিয়ায় পৌঁছায়।
১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার যুদ্ধে প্রায় আট হাজার মুসলিমকে হত্যার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন রাতকো ম্লাদিক। গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এই জেনারেলকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের হেগ থেকে তাঁর মরদেহ সার্বিয়ায় পৌঁছায়। এ সময় কফিনটি সার্বিয়ার জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল। ছয়জন সেনাসদস্য তাঁর মরদেহ বহন করেন। এ সময় তাঁর ছেলে ও সার্বিয়ার বিচারমন্ত্রী নেনান্দ ভুজিকও উপস্থিত ছিলেন।
পরে পুলিশের পাহারায় মরদেহটি সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর আগে গত সপ্তাহে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুকিচ জানিয়েছিলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত এই যুদ্ধাপরাধীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে বিদায় জানানো হবে।
মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে রাতকো ম্লাদিকের মরদেহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর তাঁর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে রাতকো ম্লাদিককে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সংস্থাটি বলেছে, তাঁর মতো একজন অপরাধীর জন্য ইউরোপে কোনো স্থান নেই। একই সঙ্গে এ ধরনের অপরাধেরও কোনো স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছে তারা।
১৯৯৫ সালে বসনিয়ার স্রেব্রেনিৎসায় জাতিসংঘ ঘোষিত ‘সেফ এরিয়া’তে প্রায় আট হাজার মুসলিমকে হত্যার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন রাতকো ম্লাদিক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর নির্দেশে মুসলিম পুরুষ ও বালকদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ভয়াবহ ওই গণহত্যার পর রাতকো ম্লাদিকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এরপর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ার একটি গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাঁকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০২১ সালে তিনি ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও আদালত তা খারিজ করে দেন।
২০১৭ সালের রায়ে আদালত রাতকো ম্লাদিকের নেতৃত্বে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে মানবজাতির বিরুদ্ধে সংঘটিত জঘন্যতম অপরাধগুলোর অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
ভোরের আকাশ/সু.পা