পাকিস্তানের ২৮ যোদ্ধাকে হত্যার দাবি আফগানিস্তানের

আফগানিস্তানের তালেবান নিয়ন্ত্রিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে আসা অন্তত ২৮ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে গুলি করে হত্যার দাবি করেছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে তারা জানায়, দেশের পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশের কামদেশ সীমান্তে এই অভিযান চালানো হয়, যেখানে আরও ৩২ জন যোদ্ধা আহত হয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, এই যোদ্ধাদের মধ্যে অধিকাংশই আফগানিস্তানের সাবেক সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং তাদের এই অনুপ্রবেশে পাকিস্তানের মিলিশিয়ার সমর্থন ছিল। তবে আফগান সরকারের এই দাবি বা হতাহতের সংখ্যা নিরপেক্ষ কোনও সূত্রে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও তথ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গত শনিবার হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে নুরিস্তানের কামদেশ সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে অনুপ্রবেশ করে সশস্ত্র দলটি। আফগান বাহিনী তাৎক্ষণিক অভিযান চালালে তারা হতাহতদের নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে আবার পাকিস্তানি মিলিশিয়া ফাঁড়ির দিকে পালিয়ে যায়। কাবুলের দাবি, পাকিস্তানি গোয়েন্দারা সাবেক আফগান নিরাপত্তা কর্মীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাকিস্তানে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের নুরিস্তানে হামলার জন্য পাঠায়।
গত ২১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়ে ২৮ জন চরমপন্থিকে হত্যার দাবি করেছিল। যদিও আফগান কর্মকর্তারা এতে বেসামরিক নাগরিক নিহতের অভিযোগ তুলেছিলেন এবং জাতিসংঘ মিশন অন্তত তিন জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছিল।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তান তাদের মাটিতে পাকিস্তানি তালেবান বা সশস্ত্র যোদ্ধাদের আশ্রয় দিচ্ছে, যা কাবুল বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি অনুপ্রবেশের সহায়তার অভিযোগ আনলো আফগান সরকার।
ভোরের আকাশ/আ.র