এত কিছু করেও নোবেল পেলাম না: ট্রাম্প

বিশ্বজুড়ে আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং মার্কিন জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার মতো সাফল্যের দাবি করেও ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১০ অক্টোবর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অসন্তোষ জানান।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের সিরাকিউজে এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পিল্লাই কী করেছেন, তা তিনি জানেন না। নরওয়েকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আপনারা যে আমাকে এই পুরস্কার দেননি, তা আমরা ভুলব না।’
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টেও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি দাবি করেন, আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন, আরও দুটি যুদ্ধের অবসান ঘটানোর কাছাকাছি রয়েছেন, ইসরাইলি জিম্মিদের সবাইকে ফিরিয়ে এনেছেন এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছেন। এসব কারণে তার কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘আমি আটটি যুদ্ধের নিষ্পত্তি করেছি, আরও দুটি যুদ্ধের অবসান ঘটানো বা মীমাংসা করার কাছাকাছি রয়েছি। ইসরাইলের সব জিম্মিকে ফিরিয়ে এনেছি, যার মধ্যে শেষ ২৮ জনও রয়েছেন—জীবিত ও মৃত উভয়ই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত জিম্মিকে মুক্ত করে তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় একটি যুদ্ধে জয়ী হয়েছি এবং দেশটিকে নির্মমভাবে শাসন করা সহিংস স্বৈরশাসককে আটক করেছি। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছি। আরও অনেক কিছু করেছি। তারপরও আমি কিংবা যুক্তরাষ্ট্র নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলাম না। বাহ!’
তবে ট্রাম্পের আটটি সংঘাতের অবসান ঘটানোর দাবির সবকটির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই। কয়েকটি সংঘাত অব্যাহত রয়েছে, আর অন্য কিছু ক্ষেত্রে সংঘাতের অবসানে অন্য পক্ষগুলোর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
প্রায় ১০ মিনিটের বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, তার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল। তাকে পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে নরওয়ে ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য ‘কলঙ্কজনক ও বিব্রতকর’ বলে বর্ণনা করেন তিনি।
নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে তিনি দাবি করেছেন, এ পুরস্কারের জন্য তিনিই যোগ্য। এমনকি পুরস্কার নিয়ে নরওয়ের নেতাদের ওপরও চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে বার্তা পাঠানোর ঘটনাও সামনে এসেছে।
তবে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস শনিবার বলেন, পুরস্কার প্রদানকারী কমিটি নরওয়ের সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করে। আলফ্রেড নোবেলের উইলে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পুরস্কারপ্রাপকদের সম্মানিত করাই তাদের একমাত্র দায়িত্ব।
ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও ফ্রাইডনেস বলেন, ‘এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য হলো এমন একজন ব্যক্তিকে সম্মান জানানো, যিনি সাহস ও সততার সঙ্গে আরও বিস্তৃত বৈশ্বিক আইনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছেন। শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে চাইলে আমাদের সমাজ ও বিশ্বকে সেই দিকেই এগোতে হবে।’
নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি দেশটির সরকারের অংশ নয়। যদিও কমিটির সদস্যদের নিয়োগ দেয় দেশটির সংসদ এবং সংসদের রাজনৈতিক গঠন অনুযায়ী কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব থাকে।
ভোরের আকাশ/আ.র