জার্মান চ্যান্সেলরের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনায় ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।
বুধবার বাঘাই তার এক বক্তব্যে মের্ৎসের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মের্ৎস ইরানের কথিত যুদ্ধ, সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। বাঘাই এসব অভিহিতকরণকে অপপ্রচার হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, আগ্রাসীদের অপরাধ আড়াল করতেই এসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইরান নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলই আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করেছে। আর জার্মানি তা নিন্দা করার ন্যূনতম নৈতিক সাহসটুকু দেখাতেও ব্যর্থ হয়েছে। এ সময় তিনি ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের ঘনিষ্ঠতা এবং কথিত অভিন্ন দায় বোঝাতে ইউএসরাইল শব্দটি ব্যবহার করেন।
পশ্চিমা দেশগুলো আঞ্চলিক প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোকে যে প্রক্সি হিসেবে অভিহিত করে, সেটিও প্রত্যাখ্যান করেন বাঘাই। তিনি বলেন, বার্লিন যাদের প্রক্সি বলছে, তারা স্বাধীনভাবে কাজ করা সংগঠন।
তাদের নিজস্ব লক্ষ্য ও হিসাব-নিকাশ রয়েছে। দখলদারিত্ব, আগ্রাসন ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে তারা আত্মনিয়ন্ত্রণ, স্বাধীনতা ও মর্যাদার জন্য লড়ছে। এ সময় তিনি পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন প্রতিরোধ জোটের গোষ্ঠীগুলোর কথা উল্লেখ করেন।
ইরানের এই মুখপাত্র আরও বলেন, তেহরানের কোনো সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি নেই। তার ভাষায়, এ অভিযোগ ইসরাইল থেকে ছড়ানো একটি বড় মিথ্যা, যা ইউরোপের বিভিন্ন রাজধানীতে ইসরাইলের সমর্থকরা যুদ্ধের যৌক্তিকতা দেখাতে বারবার সামনে আনছেন।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, জার্মানির ঐতিহাসিক অবস্থান নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন ইরানের এই কূটনীতিবিদ। তার দাবি, জার্মানির পররাষ্ট্রনীতি একটি ভুল অপরাধবোধের মানসিকতা দিয়ে প্রভাবিত। ফলে দুর্বৃত্তদের প্রতি দেশটির অবস্থান অতিনমনীয়। তারা নিজেরাও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত ।
বাঘাই বলেন, জার্মানির অপরাধবোধ কিংবা দুর্বৃত্তদের সঙ্গে আপস করার অভ্যাসের মূল্য আমাদের অঞ্চলকে দিতে হবে না। জার্মানি নোংরা কাজে সহযোগিতা করে পরবর্তীতে শান্তির প্রবক্তা ও নৈতিকতার শিক্ষক হিসেবে নিজেদেরকে উপস্থাপন করতে পারে না।
ভোরের আকাশ/এম