ইরানের ১৩০ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ দফায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি সামরিক তৎপরতাও জোরদার করেছে। মঙ্গলবার আরও এক দফা বিমান হামলাও চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ওই ওয়ালেটগুলোর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে গড়ে ওঠা একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ডিজিটাল সম্পদের অপব্যবহারসহ ইরানের অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত ও দুর্বল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্কট বেসেন্ট আরও বলেন, "আমরা অর্থের উৎস শনাক্তে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখব এবং ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে তাদের অবৈধ রাজস্বের উৎস থেকে বঞ্চিত করব।"
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিশ্বের অন্যতম স্টেবলকয়েন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান টেথার-সংক্রান্ত কিছু কার্যক্রমও এসেছে। এর আগে গত এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৩৪৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করেছিল।
অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, চীন, ইরাক, কাতার ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আটকে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অন্তত ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আটকে রয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী এ অঙ্ক কিছুটা কম।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের আটকে থাকা সম্পদের বড় অংশই চীনে রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের হিসেবে এর পরিমাণ ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে। এসব অর্থের বেশিরভাগই চীনে তেল রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন এখনও ইরানি তেলের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের আধিপত্য এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান এসব অর্থের পূর্ণ ব্যবহার করতে পারছে না। যদিও আটকে থাকা অর্থের একটি অংশ চীনা পণ্য ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ এখনও অবমুক্ত হয়নি। সূত্র: সিএনএন
ভোরের আকাশ/সু.পা