হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে সমঝোতার পথে ইরান ও ওমান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান ও ওমান। এ বিষয়ে দুই দেশ একটি সম্ভাব্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা। সোমবার (৩ আগস্ট) নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলো ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন ও উপকূলসংলগ্ন একটি নৌপথ ব্যবহার করবে। অন্যদিকে উপসাগর থেকে বের হওয়া জাহাজগুলো চলাচল করবে ওমানের উপকূলঘেঁষা একটি পৃথক নৌপথ দিয়ে।
ইরানের কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, এই নৌপথ ব্যবহারের জন্য কোনো ধরনের টোল আরোপ করা হবে না। তবে পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলা, পণ্যবাহী জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি ‘পরিষেবা ফি’ নেওয়ার বিষয়টি চুক্তিতে থাকতে পারে। ওই অর্থ ইরান ও ওমানের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হবে।
তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা ইরানের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তার দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ‘অস্থায়ী’ নৌপথ ব্যবহারের জন্য ইরানের অনুমতির প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ পথে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের টোলও আরোপ করা হবে না।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পেন্টাগনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইরান অতিরিক্ত কূটনৈতিক সুবিধা পেতে পারে।
এদিকে, চুক্তিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে এবং এটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে পারবে কি না—সেই প্রশ্নও তুলেছেন ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ভোরের আকাশ/সু.পা