উত্তর সাইপ্রাসে ফেরি ডুবে নিহত ৮, নিখোঁজ ১৮

ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের উত্তরাঞ্চলে যাত্রীবাহী একটি ফেরি ডুবে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তর সাইপ্রাসের কাইরেনিয়া বন্দরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফেরিটিতে ২৬৭ জন যাত্রী ছিলেন। নিহত ও নিখোঁজদের বাদে বাকি ২৪১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ফেরিটি কী কারণে ডুবে গেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার আগে ফেরিটি অস্বাভাবিকভাবে দুলছিল। একপর্যায়ে পানির ওপর থেকে প্রচণ্ডভাবে উঠে আবার আছড়ে পড়লে দুই মাস্তুলবিশিষ্ট ফেরিটির সামনের অংশে ফাটল ধরে। পরে সেখান দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। ফেরিটিতে আটজন নাবিকও ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় অবকাশযাপন কেন্দ্র কাইরেনিয়ার উপকূলের কাছেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফেরিটি ছিল তুরস্কের সঙ্গে উত্তর সাইপ্রাসকে সরাসরি যুক্ত করা কয়েকটি শাটল সামুদ্রিক পরিষেবার একটি।
১৯৭৪ সালে একটি অভ্যুত্থানের পর সাইপ্রাস উত্তর ও দক্ষিণ—দুই অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। দক্ষিণ সাইপ্রাস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। অন্যদিকে, পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর সাইপ্রাসকে তুরস্ক ছাড়া অন্য কোনো দেশ স্বীকৃতি দেয়নি। এ কারণে অঞ্চলটি তুর্কি সাইপ্রাস নামেও পরিচিত।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো অঞ্চলে শোক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরও স্বজনেরা কাইরেনিয়ার একটি স্থানীয় হাসপাতাল ও বন্দরের ফটকের বাইরে প্রিয়জনদের খবরের অপেক্ষায় ছিলেন। তুর্কি সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট তুফান এরহুরমান এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
দুর্ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, লাল লাইফ জ্যাকেট পরা বেশ কয়েকজন যাত্রী উল্টে যাওয়া ফেরিটির ওপর বসে বা দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের তীরে ফিরিয়ে আনতে কোস্টগার্ড ও ব্যক্তিগত নৌযানের সহায়তা নেওয়া হয়।
বেঁচে যাওয়া যাত্রী এফে মাল্টিচি সিএনএন তুর্ককে বলেন, ফেরিটি খুব বাজেভাবে দুলছিল। সেটি বারবার পানি থেকে উঠে প্রচণ্ড শব্দে নিচে আছড়ে পড়ছিল। কয়েক মিনিট পর ফেরিটি অনেকটা ওপরে উঠে আবার সজোরে পানিতে পড়ে। তখন তারা দেখতে পান, ফেরিটির সামনের বাম অংশ ফেটে গেছে এবং সেখান দিয়ে পানি ঢুকছে।
উত্তর সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেরিটির ক্যাপ্টেনসহ সাত নাবিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল নাগাদ ফেরিটি পুরোপুরি ডুবে যায়। বর্তমানে এটি সাগরের প্রায় ৫১৪ মিটার (১ হাজার ৬৮৬ ফুট) গভীরে রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তুরস্কের ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংকট ব্যবস্থাপনা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এরহুরমান বলেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তাদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সূত্র : রয়টার্স