হামাসের নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ‘সম্মতি’

ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাবিত গাজার নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানিয়েছে। সোমবার এএফপিকে হামাসের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, “হামাস ও এর সহযোগী গোষ্ঠীগুলো কোনো সংশোধন ছাড়াই নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হয়েছে। প্রস্তাবের জবাব ইতোমধ্যেই মধ্যস্থতাকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আরেকটি ফিলিস্তিনি সূত্র জানিয়েছে, “মধ্যস্থতাকারীরা শিগগিরই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা দেবেন এবং নতুন করে আলোচনার তারিখ নির্ধারণ করবেন। চুক্তি বাস্তবায়নে হামাসকে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে, ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মধ্যস্থতায় কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। এর আগে একাধিক প্রচেষ্টা হলেও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে দুই ধাপে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে ১০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মি ও কয়েকজনের মরদেহ ফেরত দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা সহ আলোচনা শুরু হবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর অপহৃত ২৫১ জনের মধ্যে এখনো ৪৯ জন গাজায় আটক রয়েছেন। এর মধ্যে ২৭ জন ইতোমধ্যেই নিহত হয়েছেন।
ওই হামলায় ১,২১৯ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। পাল্টা অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে বলে হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে জাতিসংঘ জানিয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
ভোরের আকাশ//হ.র