প্রাণ বাঁচাতে বাংকারে লাখ লাখ ইসরায়েলি

ইসরায়েলে শত শত ড্রোন ও ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। এরইমধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দিকে এগোচ্ছে ইরান। শুক্রবার (৬ মার্চ) মধ্যরাত থেকে এ পর্যন্ত ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে অন্তত পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে দেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ হামলার জেরে সারা রাত লাখ লাখ ইসরায়েলিকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে (বাংকারে) অবস্থান করতে হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
ইসরায়েল সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে ইরান এমন কৌশল নিচ্ছে বলে ধারণা ইসরায়েলের বিশ্লেষকদের। তাদের মতে, যাতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলিদের দীর্ঘ সময় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে বাধ্য করা যায় তাই ইরানিরা এই কৌশল ব্যবহার করছে।
দেশবাসীর উদ্দেশে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ধারণা করছিল হামলার প্রথম সপ্তাহেই ইরান থেকে ইসরায়েলে অন্তত এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হতে পারে। তবে এ পর্যন্ত মাত্র ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
ইসরায়েলিদের দাবি, এটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ক্ষেত্রে ইরানের দুর্বল সক্ষমতাকে ফুটিয়ে তুলছে। আর এর কারণ হিসেবে ইসরায়েল তাদের ভাষায় নিজেদের ‘সাফল্য’কে কৃতিত্ব দিচ্ছে।
এদিকে শনিবার ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরায়েলে এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। আইডিএফের বিবৃতির বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়েছে। এসব হামলা ঠেকাতে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে যেতে বলার কিছুক্ষণ পরেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আবারও আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সতর্ক করে দেয়। ইরান থেকে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে করায় পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে আবারও আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।
ভোরের আকাশ/আ.র