ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ১৮ শতাংশ বৃদ্ধির আশা

ভেনেজুয়েলা চলতি বছরে তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। লক্ষ্য অনুযায়ী, দেশটি উৎপাদন প্রায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে জ্বালানি খাত বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হেক্টর ওব্রেগন।
হেক্টর ওব্রেগন বলেন, বিদ্যমান আইন কাঠামো বর্তমান শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে আইনি সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সংস্কারের মাধ্যমে তেল উৎপাদন বাড়ানোর পথ সুগম করা হবে। তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ১৮ শতাংশ তেল উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় দৈনিক তেল উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন হ্রাস এবং অবকাঠামোগত সংকটে থাকা এই খাতকে নতুন করে চাঙা করতেই সরকার এমন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ যে নতুন আইনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটি গত বৃহস্পতিবার জাতীয় পরিষদে প্রথম পাঠে অনুমোদন পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণেই আইনটি দ্রুত অনুমোদনের পথে এগোচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর এই চাপ আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ভেনেজুয়েলার তেলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরেছেন, যা এই আইন প্রণয়নের পেছনে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নতুন আইনটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই শিথিল হবে। এই কঠোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সমাজতান্ত্রিক নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শেভেজ আরও জোরদার করেছিলেন। এখন সেই নীতিতে পরিবর্তন এনে বিদেশি ও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর দিকেই এগোচ্ছে ভেনেজুয়েলা সরকার।
ভোরের আকাশ/তা.কা