চীন-রাশিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু
চীন ও রাশিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক কালে কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় ও কার্যকর করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের আগস্টের প্রথম দিনগুলোতে জাপান সাগরে ‘জয়েন্ট সি-২০২৫’ নামে একটি যৌথ নৌ মহড়া শুরু হয়েছে।
মহড়াটি রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্টক বন্দরের নিকটবর্তী জলসীমায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি আগামী তিন দিন ব্যাপী চলবে। এই মহড়ায় চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন ও পরীক্ষা হবে যার মধ্যে রয়েছে সাবমেরিন উদ্ধারঅভিযান, সাবমেরিন-বিধ্বংসী অভিযান, বিমান প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী অভিযানের পাশাপাশি সামুদ্রিক যুদ্ধ পরিচালনা।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিভিন্ন সামরিক জাহাজ অংশ নিচ্ছে, আর চীনের নৌবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে ‘শাওক্সিং’ ও ‘উরুমকি’সহ চারটি গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী জাহাজ মহড়ায় অংশগ্রহণ করছে। মহড়ার পর, উভয় দেশ প্রশান্ত মহাসাগরের প্রাসঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় নিয়মিত নৌ-টহল অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে। এসব কার্যক্রম দুই দেশের মধ্যে গভীর কৌশলগত সহযোগিতার স্বাক্ষর বহন করে।
চীন ও রাশিয়ার সামরিক অংশীদারিত্ব আজকের দিন পর্যন্ত একটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। ২০১২ সালে এই যৌথ মহড়ার সূচনা হয়, এরপর থেকে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে এই যৌথ মহড়াগুলো চালানো হচ্ছে। গত বছরের মহড়াটি চীনের দক্ষিণ উপকূলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা সাগরীয় কৌশলগত সমর্থন ও যৌথ প্রস্তুতির কথা প্রমাণ করে।
উভয় দেশের সম্পর্ক শুধুমাত্র সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মঞ্চেও গভীরতর হয়েছে, বিশেষ করে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর পর তাদের সহযোগিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক পশ্চিমা দেশ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মিত্ররা বিশ্বাস করে যে, চীন মস্কোকে সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা এই যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং চীনের নিরপেক্ষতা দাবিকে অবাস্তব ও আপেল করে বিবেচনা করছে।
অপরদিকে, চীন বারবার নিজেকে নিরপেক্ষ পক্ষ হিসেবে ঘোষণা করে আসছে। তারা নিয়মিত যুদ্ধ স্থগিত করার আহ্বান জানায় এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করে সংঘাত দীর্ঘায়িত করার অভিযোগ করে। এই জটিল রাজনীতির মধ্যেও চীন ও রাশিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার মতো কর্মকাণ্ড তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মজবুত প্রমাণ সরবরাহ করে।
সাম্প্রতিক এই নৌ মহড়া, দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার গভীরতা ও অটুট বন্ধুত্বের পরিচায়ক। এটি শুধু সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বরং একটি গ্লোবাল জলসীমায় শক্তি সমন্বয় ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই, ‘জয়েন্ট সি-২০২৫’ মহড়ার মাধ্যমে চীন ও রাশিয়া পরস্পরের সাথে একাত্মতার নতুন অধ্যায় শুরু করেছে এবং বিশ্বমঞ্চে তাদের সংকট সামলানোর যৌথ প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করেছে।
ভোরের আকাশ/তাকা