ট্রাম্পের চাপের মধ্যেও লেবাননে স্থায়ী সেনাঘাঁটি গড়ছে ইসরায়েল

লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের চাপের মধ্যেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে স্থায়ী সেনাঘাঁটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ইসরায়েল। এমন দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক মারিভ। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটি জানায়, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি ও নজরদারি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেনাঘাঁটি কোথায় স্থাপন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আইডিএফ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ১৩৪ জন নিহত, ১২ হাজার ২২৪ জন আহত এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত বুধবার ইতালির রাজধানী রোমে। সেখানে দক্ষিণ লেবাননের দুটি এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাব্য কাঠামো ও শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি সমঝোতায় দক্ষিণ লেবাননের দুটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে সীমিতসংখ্যক ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন রাখার কথা উল্লেখ ছিল। একই সঙ্গে বাকি এলাকা থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার এবং শেষ পর্যায়ে ওই পরীক্ষামূলক এলাকা থেকেও সেনা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
এদিকে লেবাননে সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতপার্থক্য রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ও সেনা অভিযান বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও নেতানিয়াহু অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
মারিভের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লেবাননে অভিযান বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকলেও ইসরায়েল দক্ষিণাঞ্চলে নতুন সেনাঘাঁটি নির্মাণের মাধ্যমে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার পথে এগোচ্ছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা