আঞ্চলিক অস্থিরতা কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কার মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আঞ্চলিক অস্থিরতা কোনো দেশের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে না। মঙ্গলবার সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ফোনালাপে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিমূলক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের লক্ষ্য হচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যাহত করা, যার পরিণতি হবে আরও অস্থিতিশীলতা।
ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থনৈতিক চাপ ও বাইরের হস্তক্ষেপসহ সাম্প্রতিক বৈরী কার্যক্রম ইরানি জনগণের সহনশীলতা ও সচেতনতা দুর্বল করতে পারেনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ সংলাপকে স্বাগত জানিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতি সৌদি আরবের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও আগ্রাসন বা উত্তেজনা বৃদ্ধির বিরোধিতা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সৌদি প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সৌদির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ফোনালাপে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে সৌদি আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপভিত্তিক উদ্যোগে সৌদি আরবের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বক্তব্যের পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেছেন, একটি নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তবে সেটি ব্যবহার করতে না হয় এমনটাই তিনি আশা করছেন।
আবার সোমবার রয়টার্সকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছে, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এতে মার্কিন বাহিনী রক্ষায় এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সক্ষমতা বাড়বে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে এসব যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন শুরু হয়। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অতীতেও উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধসরঞ্জাম পাঠিয়েছে, যা বেশিরভাগ সময়ই প্রতিরক্ষামূলক ছিল। তবে গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি জড়ো করেছিল।
ভোরের আকাশ/এনএস