দেশের স্বার্থে আলোচনা ও যুদ্ধ দুই পথেই প্রস্তুত ইরান : আরাঘচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে ইরান যুদ্ধ করবে, আবার প্রয়োজন হলে আলোচনার পথেও এগোবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের জন্য এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বুধবার (২০ মে) তেহরানে সাবেক দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজি ও হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ানের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। দুই সাবেক মন্ত্রীর একজন মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এবং অন্যজন হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন।
অনুষ্ঠানে আরাঘচি প্রয়াত দুই নেতার স্মৃতিচারণ করেন এবং তাদের পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিক অবস্থানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কূটনীতিকরা কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের স্বার্থে যেখানে কূটনীতি, সংলাপ বা আলোচনার প্রয়োজন হবে, সেখানে ইরান দৃঢ় অবস্থান নিয়েই অংশ নেবে।
আরাঘচি আরও বলেন, যেভাবে সশস্ত্র বাহিনী দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছে, একইভাবে কূটনীতিকরাও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশ-বিদেশে কর্মরত কূটনীতিক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষ করে সাম্প্রতিক যুদ্ধ, আগ্রাসন ও যুদ্ধবিরতির পরবর্তী সময়ে তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
আরাঘচির দাবি, মার্কিন কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও ইরান সফল হয়েছে। বিদেশে থাকা ইরানি দূতাবাসগুলো গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক লড়াইয়েও জয় পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ইরানের জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করে আরাঘচি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা, সামরিক ও কূটনৈতিক বাহিনীর প্রতি জনগণ জোরালো সমর্থন দিয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি ও গণমাধ্যম—এই তিনটি ক্ষেত্র সবসময় একে অপরকে সহায়তা করেছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতে এর সঙ্গে নতুন একটি শক্তি যুক্ত হয়েছে, সেটি হলো জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ।
ভোরের আকাশ/সু.পা