ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ককে রাশিয়ার হুঁশিয়ারী

ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ এবং তুরস্কের মাধ্যমে সেসব অস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন হাতে এসেছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক এ বিষয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে দুই দেশের সঙ্গে রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে জাখারোভা বলেন, গোয়েন্দা সূত্রে রাশিয়া জানতে পেরেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রথমে তুরস্কের বন্দরে পৌঁছাবে। এরপর সেখান থেকে সেগুলো ইউক্রেনে পাঠানো হবে বলে দাবি করেন তিনি।
জাখারোভা বলেন, গোপন অস্ত্রের চালানসংক্রান্ত এই অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। যৌক্তিক ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার সঙ্গে মস্কোর কূটনৈতিক সম্পর্কে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।
উল্লেখ্য, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। গত কয়েক মাস ধরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে ভুগছে ইউক্রেন। সম্প্রতি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে আর অস্ত্র সহায়তা দেবে না। যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নেওয়া তুরস্কও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে জানিয়েছে, আঙ্কারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও উসকে দেয়।
অন্যদিকে, সম্প্রতি রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সামারা প্রদেশে কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিক হামলা চালানোর দাবি করেছে ইউক্রেন। ওই প্রদেশেই রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রোসকসমসের একটি দপ্তর রয়েছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, রোসকসমসের একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে সফল হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই হামলায় মার্কিন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ব্যবহার করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা