চীনে মোদিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা: কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন বার্তা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার (৩০ আগস্ট) চীনের তিয়ানজিন শহরে পৌঁছেছেন। সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে তিনি এই সফরে গেছেন। তিয়ানজিনের বিনহাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোদিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন চীনের তথ্য ও সম্প্রচার ও শিল্পমন্ত্রী লি লেচেং।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে ভারত-চীন বন্ধুত্বকে তুলে ধরা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং দুই দেশের ভবিষ্যৎ কৌশলগত সম্পর্কের ইঙ্গিত বহন করছে।
রোববার থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনের এসসিও সম্মেলন, যেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ২০টির বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান অংশ নেবেন। ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান সংঘাতের পর ভারত-চীন সম্পর্ক টানাপোড়েনে থাকলেও সাম্প্রতিক সংলাপ ও উদ্যোগে তা কিছুটা উন্নত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মোদিকে দেওয়া এই সংবর্ধনা সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও সফরটির গুরুত্ব বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের উষ্ণ অভ্যর্থনা ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
সফরে মোদি কেবল এসসিও শীর্ষ বৈঠকেই অংশ নেবেন না, বরং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। সীমান্ত পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংঘাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্য— এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারত ও চীন একসঙ্গে বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৩৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, আর ভারত দ্রুত তৃতীয় স্থানে পৌঁছানোর পথে। সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশই প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মোদিকে প্রদত্ত এই লাল গালিচা সংবর্ধনা শুধু দুই দেশের কূটনৈতিক অগ্রগতি নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতেও নতুন ভারসাম্যের বার্তা দিচ্ছে।
ভোরের আকাশ//হ.র