মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মাঝেই কিম জং উনের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা

ইরানকে ঘিরে বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। রোববার দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে সাগরের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। চলতি মাসে এটি চতুর্থ এবং এ বছর সপ্তমবারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া। ঘনঘন এই পরীক্ষা মূলত আত্মরক্ষার সক্ষমতা প্রদর্শন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা কিম কি-জুং বলেন, এসব উৎক্ষেপণের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং সম্ভবত দেখাতে চাইছে যে, তারা অন্য দেশের মতো নির্ভরশীল নয়, বরং নিজেদের সুরক্ষায় সক্ষম। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংলাপের আগে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কেন্দ্র করে ইরান-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাত উত্তর কোরিয়া-এর পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আরও উসকে দিতে পারে।
আগামী মাসে চীনে একটি শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং উভয়েই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন-এর সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১৯ এপ্রিল) ভোরে সিনপো শহরের কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয়, যা প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সাগরে গিয়ে পড়ে। জাপান সরকার জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রবেশ করেনি।
উৎক্ষেপণের পর ব্লু হাউস জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডাকে এবং এই পদক্ষেপকে উসকানিমূলক ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ-এর প্রস্তাবের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ংকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে কী ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, সিনপোতে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার অবকাঠামো থাকায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।
ভোরের আকাশ/সু.পা