গাজা যুদ্ধে স্পেনের রুখে দাঁড়ানো: ইসরায়েলের সঙ্গে লাখো ডলারের অস্ত্র চুক্তি বাতিল

গাজায় চলমান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে স্পেন সরকার ইসরায়েলের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার বড় চুক্তি বাতিল করেছে। মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি ও টাইমস অব ইসরায়েল।
চুক্তি অনুসারে, প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ইউরো (৮২৫ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের ইসরায়েলি সিলাম রকেট লঞ্চার কেনার কথা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সরকারের নির্দেশে তা বাতিল করা হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা এলবিট সিস্টেমস এর চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির আওতায় ১২টি রকেট লঞ্চার কেনার পরিকল্পনা ছিল, যা এলবিটের ‘পালস’ প্ল্যাটফর্মে তৈরি। এই রকেটগুলো ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হামলা চালাতে সক্ষম।
চুক্তি বাতিলের তথ্য স্পেনের সরকারি প্ল্যাটফর্মে ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে এলবিটের প্রায় ১৭৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়াও, স্পেন ইসরায়েলের কাছ থেকে ১৬৮টি ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার কেনার চুক্তিও বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মূল্যমান ৩৩৭.৫ মিলিয়ন ডলার।
প্রধানমন্ত্রী সানচেজ জানান, গাজার গণহত্যা বন্ধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের জেরে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেনা ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
গাজায় সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার পর, স্পেন ইসরায়েলি অস্ত্র ও প্রযুক্তি থেকে ধীরে ধীরে নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীকে মুক্ত করার বৃহত্তর উদ্যোগ নিয়েছে। লা ভ্যানগার্ডিয়া জানিয়েছে, সরকারি দরপত্রের পর্যালোচনা অনুযায়ী এ ধরনের উদ্যোগে ইসরায়েলের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি অনুমান করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় এক হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। পাল্টা হামলায় ইসরায়েল গাজার ওপর আক্রমণ চালিয়ে প্রায় ৬৫,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত করেছে, যেখানে বেশিরভাগ শিশু ও নারী।
স্পেনের রুখে দাঁড়ানো শুধু কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়—ক্রীড়া প্রতিযোগিতাতেও ইসরায়েল-বিরোধী পদক্ষেপ দেখা গেছে। বিলবাও শহরে আন্তর্জাতিক সাইকেল রেসে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের কারণে ইসরায়েলি দলের অংশগ্রহণ বাতিল করা হয়। এছাড়া স্প্যানিশ দাবা টুর্নামেন্ট থেকেও সাত ইসরায়েলি প্রতিযোগীর নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়।
মাদ্রিদ-তেল আবিব সম্পর্ক এখন বৈরী। ২০২৪ সালে স্পেন ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর নেতানিয়াহু মাদ্রিদ থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছেন। এভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে স্পেনের দূরত্ব আরও বাড়ছে।
ভোরের আকাশ//হ.র