মালয়েশিয়া থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে ফিরেছেন দেড় হাজার নাগরিক

মালয়েশিয়া থেকে প্রায় দেড় হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে যুদ্ধবিধ্বস্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার লুমুত নৌঘাঁটি থেকে মিয়ানমার নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজে করে তাদের যাত্রা শুরু হয় এবং রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে তারা মিয়ানমারের থানলিন নৌঘাঁটিতে পৌঁছান।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, রোববার মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজে করে থানলিন নৌঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর এই অভিবাসীদের অভিবাসন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি বৌদ্ধ মঠের হলঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। আটককেন্দ্রে দীর্ঘ দিন বন্দি থাকার পর ফেরা এই মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত অনিশ্চিত। অনেকেই বন্দিদশার নানা কষ্টের কথা জানিয়েছেন, আর স্বজনদের সঙ্গেও তাৎক্ষণিকভাবে অনেকের দেখা মেলেনি।
জাতিসংঘের মতে, গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপদ প্রত্যাবাসন অসম্ভব। তবে মালয়েশিয়ার দাবি, অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় ফিরেছেন। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, বন্দিদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না এবং এই প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ঝুঁকিতে থাকা তরুণরাও রয়েছেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঘোষণা অনুযায়ী মিয়ানমারের ৫ হাজার অভিবাসীকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনার এটি প্রথম ধাপ। এর মধ্যে কোনো রোহিঙ্গা আছেন কি না, সে বিষয়ে কুয়ালালামপুর কোনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, তীব্র সংঘাত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই সময়ে মানুষজনকে জোর করে এমন ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ফেরত পাঠানো মোটেও সমীচীন নয়।
ভোরের আকাশ/আ.র