তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপি ‘নতুন ফর্মুলা’ আনতে চায়: হাসনাত আবদুল্লাহ

২০০৬ সালের মতো একদলীয় নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে বিএনপি নতুন একটি ফর্মুলা সামনে আনতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ জন্য দলটি প্রতারণামূলক নতুন ব্যবস্থায় যেতে পারে এবং ধর্মীয় কার্ড ব্যবহার করতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৪র্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মতো বিএনপি সরকারও ব্যাংক খাতকে নতুন করে অলিগার্ক মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ব্যাংক রেজুলেশনের ১৮(ক) ধারা সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে বাধ্য হয়ে বাতিল করেছে।
রুগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আপত্তি জানিয়েছেন বলে জানান হাসনাত। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে না দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে এ ঋণ বিতরণ করা হলে রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে বিএনপি ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত। ঋণখেলাপিরা যাতে নতুন করে ঋণ নিতে না পারেন, সে বিষয়ে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গণভোট নিয়েও বিএনপি দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েছে দাবি করে হাসনাত বলেন, এ কারণে দলটি জনগণের আস্থা হারিয়েছে। বর্তমান সংবিধান সংশোধন কমিটিকে ‘আমরা মামুরা সংশোধন কমিটি’ বলেও আখ্যা দেন তিনি।
এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাইফুল আলম মিলন বলেন, বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো অর্থমন্ত্রী তথা সরকার ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই সনদে সরকারের যা আছে, সেগুলোসহ বিষয়টি সংসদে আনা হোক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, জুলাই সনদ ‘অন্তহীন প্রতারণার দলিল’। যারা ওই দলিলে স্বাক্ষর করেছেন, তারাই যদি এটিকে প্রতারণা বলেন, তাহলে বিষয়টি জনগণই বিচার করবেন। অর্থহীন বিতর্কে যেতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক) এর বর্তমান অবস্থা নিয়ে সুস্পষ্ট তথ্য উপাত্ত উপস্থাপনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি সদস্য হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, জালাল উদ্দিন এমপি, মঈনুল ইসলাম খান এমপি, সফিকুর রহমান (কিরন) এমপি, সাইফুল আলম এমপি, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে ২য় ও ৩য় বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিতকরণ ও সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় উপস্থাপিত বিষয়ের উপর আলোচনায় কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করে মন্ত্রণালয়কে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনায়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষ্যে নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রীকে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
ভোরের আকাশ/এনএস