কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিল। সতর্কতার পরই কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে ইউক্রেনের অধিকৃত রুশ অঞ্চলের একটি কলেজে গত শুক্রবার হামলা চালায় ইউক্রেনীয় সেনারা। ওই হামলার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলার নির্দেশ দেন বলে জানা যায়।
স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী এক সতর্কবার্তায় জানায়, রাশিয়া মধ্য-পাল্লার ওরেশনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করছে। কিয়েভের সামরিক প্রশাসক তৈমুর তাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, রাজধানী এখন বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রয়েছে। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মিসাইল আঘাত হেনেছে এবং সেখান থেকে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার (২২ মে) রাশিয়ার অধিকৃত লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোব্লিসকে একটি কলেজে ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। এটিকে ‘জঙ্গি হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে রাশিয়া পাল্টা প্রতিশোধের ঘোষণা দেয়।
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, ওই হামলায় এখন পর্যন্ত ১৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ভবনের নিচে আরও তিনজন আটকা পড়েছেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী কলেজে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্টারোব্লিসকে ‘রুবিকন’ ইউনিটের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল।
রুবিকন ইউনিটটি ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন উন্নয়ন ও ব্যবহারের জন্য পরিচিত। সম্প্রতি ইউক্রেন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বৃদ্ধি করেছে এবং গত সপ্তাহে অধিকৃত অঞ্চলের দুটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। সূত্র: সিএনএন
ভোরের আকাশ/সু.পা