শিরোনাম
ঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

একমঞ্চে উঠছেন শি-পুতিন-মোদি

নিখিল মানখিন

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ৮:৪৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে তৈরি হচ্ছে নতুন এক অদ্ভুত সমীকরণ। তিন পরমাণু শক্তিধর দেশের নেতারা এবার এক ছাতার নিচে আসতে যাচ্ছেন। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুযুদ্ধ দীর্ঘদিনের। এবার যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেটে পড়েছে ভারত। 

রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে রয়েছে বহু বছরের বন্ধুত্বের সুসম্পর্ক। এতদিন সীমান্ত সমস্যাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধ থাকলেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক আচরণে কাছাকাছি চলে এসেছে চীন ও ভারত। এভাবে বেশি মাত্রায় চাপপ্রয়োগ করতে গিয়ে এশিয়ার তিন মহারথী ‘চীন-রাশিয়া-ভারত’কে ঐকমত্যে আসার পরিবেশ সৃষ্টি করে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। 

আগামী ৩১ আগস্ট থেকে পহেলা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনে অনুষ্ঠিত হবে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন। আর সেখানেই একসঙ্গে মঞ্চে উঠবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। 

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বিশ্ববাণিজ্যকে এলোমেলো করে দিয়েছেন, তখন ভারত, চীন ও রাশিয়া ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এমন এক লক্ষণ এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। তারই অংশ হিসেবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সপ্তাহে তিয়ানজিনে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলনে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের নেতাদের একত্রিত করতে যাচ্ছেন। এই সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনকে বলা হচ্ছে ‘গ্লোবাল সাউথ সংহতি’র এক শক্তিশালী প্রদর্শন। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত রাশিয়াকে কূটনৈতিক মঞ্চে নতুন করে সুযোগ করে দেবে এই বৈঠক।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ছাড়াও মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য এটি হবে সাত বছরের মধ্যে প্রথম চীন সফর।

২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমনে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে সর্বশেষ এক মঞ্চে গিয়েছিলেন শি, মোদি ও পুতিন। তখন পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার নেতা পুতিনকে এড়িয়ে চললেও এবার এসসিওতে মস্কো আশা করছে, ভারত ও চীনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে। চায়না-গ্লোবাল সাউথ প্রজেক্টের প্রধান এরিক ওল্যান্ডার বলেন, শি জিনপিং এই সম্মেলনকে ব্যবহার করতে চান নতুন এক ‘পোস্ট-আমেরিকান’ বিশ্বব্যবস্থার চিত্র দেখাতে।

জানুয়ারি থেকে হোয়াইট হাউস চীন, ইরান, রাশিয়া- এমনকি ভারতকেও প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তা কাক্সিক্ষত ফল দেয়নি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটিই হবে সবচেয়ে বড় এসসিও সম্মেলন। নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম থেকে শুরু করে অর্থনীতি ও সামরিক সহযোগিতায় ব্লকটির কার্যপরিধি বেড়েছে। বর্তমানে ১০ স্থায়ী সদস্য ছাড়াও ১৬টি ডায়ালগ ও পর্যবেক্ষক দেশ রয়েছে। 

কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও তার শুল্কের রোষানল থেকে রেহাই পাননি। 

ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ, বাণিজ্যিক হুমকি এবং একতরফা নীতি প্রয়োগে চাপে পড়েছে প্রায় বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ।  তবে এবার এসব চাপ ও হুমকিকে গুরুত্ব না দিয়ে একজোট হতে পারে বিশ্বের অন্যতম তিন মহাশক্তি রাশিয়া-চীন ও ভারত। মার্কিন বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক হুমকিকে পাত্তা না দিয়ে একসঙ্গে কৌশলগত অবস্থান নিচ্ছে রাশিয়া-চীন ও ভারত। যা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুনমাত্রা যোগ করতে পারে।

দীর্ঘ ছয় বছর পর চীন সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সফরের ঘোষণা এমন এক সময় এলো যখন এক সময়ের কৌশলগত মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এক প্রকার তলানিতে। 

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় ভারতের ওপর আবারও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে রুশ প্রশাসনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, আমরা (ট্রাম্পের) অনেক বিবৃতির কথাই শুনছি, যেগুলো আসলে হুমকি। বিভিন্ন দেশকে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। আমরা এই বিবৃতিগুলোকে বৈধ এবং ন্যায্য বলে মনে করছি না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পেসকভের বক্তব্যে কোথাও সরাসরি ভারতের নাম উল্লেখ করা না হলেও ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ যে ট্রাম্পের শুল্কবাণের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়াচ্ছে, তা স্পষ্ট।  

ট্রাম্পের এই হুমকির মাঝে চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন মোদি। আর একই সময়ে চীন সফরে যাবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও। 

এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এসএসিও সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ, বাণিজ্যসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। ভারতের পক্ষ থেকে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। লক্ষ্য, সম্পর্ক পুনরুদ্ধার ও সীমান্ত ইস্যুতে উত্তেজনার হ্রাস।

এর আগে, ২০২৪ সালে অক্টোবরে রাশিয়ায় ব্রিকসের সম্মেলনে মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক হয়। এ বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার শুরু হয়। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা নীতির কারণে বিশ্বের কূটনৈতিক ভারসাম্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত সুস্পষ্ট হচ্ছে। এই মুহূর্তে চীন, রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে নতুন এক মেরুকরণ গড়ে উঠছে। যা ভবিষ্যতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্রাম্প নতুন করে ভারতের ওপর ঘোষিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কারোপে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীনও। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং এক্সে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্পকে ‘মাস্তান’ বলে কটাক্ষ করেন। 

তিনি লেখেন, ‘মাস্তানকে এক ইঞ্চি জায়গা দিলে মাইলকে মাইল দখল করে নেবে।’ তার মতে, শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে অন্য দেশগুলোকে দমন করার চেষ্টা জাতিসংঘের বাণিজ্য নীতির পরিপন্থি এবং এই ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

এদিকে, শুল্কারোপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, দেশের কৃষকদের স্বার্থে কোনো আপস করবেন না। সে জন্য তাকে অনেক মূল্য দিতে হতে পারে। তিনি প্রস্তুত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদুল আলম বলেন, বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যেখানে কেবল সামরিক শক্তি ব্যবহারই তার রাজনৈতিক কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ন্ন রাখতে পারে। এখানে সত্যিকার অর্থে শান্তি প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক সহাবস্থান এবং শক্তির ভারসাম্য সৃষ্টি করার মতো রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব চীন ও রাশিয়ার মতো দেশকেও উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে। 

অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এ ধরনের পরস্পরবিরোধী পদক্ষেপের প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়বেই। পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদি হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতিকে ধীর করবে এবং এর ফলে বৈশ্বিক কর্মসংস্থানে ও বাংলাদেশের মতো স্বল্পমাত্রায় রপ্তানি করে এমন দেশগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

ভোরের আকাশ/মো.আ.

শি জিনপিংভ্লাদিমির পুতিননরেন্দ্র মোদি

শেয়ার করুন: