ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৫৮টি বিমান অভিযান চালিয়েছে সৌদি

সৌদি আরব গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে রেকর্ড ৫৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত পর্যন্ত এই ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়।
সোমবার হুথি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারে জানান, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালী এবং মোখা বন্দর হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পরপরই সৌদি আরব এই জোরালো হামলা শুরু করে। সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমান ঘাঁটি থেকে ওড়া এফ-১৫ ফাইটার জেট দিয়ে এই অভিযানগুলো চালানো হয়।
ইয়েমেনের হুথিপন্থি টেলিভিশন চ্যানেল আল মাসিরাহ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনের সা’দা, মোনাব্বিহ জেলা এবং আল জৌফ প্রদেশে পরিচালনা করা হয়েছে এসব অভিযান। এই তিন এলাকাই হুথি বাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি এলাকা।
১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় সারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল সৌদি, তার পাল্টা জবাব দিতেই সৌদি বিমান বাহিনী এসব বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছে সৌদি আরবের। ইতোমধ্যে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পর গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল মান্দেব প্রণালি দখল করেছে হুথি যোদ্ধারা, যা সৌদির জন্য বড় দুঃসংবাদ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাব এল মান্দেব প্রণালি দিয়ে এত দিন নিজেদের অধিকাংশ জ্বালানি তেল রপ্তানি করে আসছিল সৌদি আরব।
গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে বিমান অভিযান পরিচালনা করছে সৌদি আরব। হুথি বিদ্রোহীদের তথ্য অনুযায়ী রোববারের আগ পর্যন্ত ১৩০টিরও বেশি বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে সৌদি বিমানবাহিনী।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনীও উত্তর ইয়েমেন এবং রাজধানী সানা-কে হুথিদের দখলমুক্ত করতে অভিযানে নেমেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো মুখপাত্র ইয়েমেনে সাম্প্রতিক বিমান অভিযান নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, সৌদির বিমান অভিযানগুলো এখন পর্যন্ত মূলত সম্মুখসারিতে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সহায়তার ওপরই সীমাবদ্ধ আছে; রাজধানী সানা-সহ হুথিদের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রগুলোকে এখনও লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব ২০১৪ সাল থেকে। সে বছর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তারপর মাত্র এক বছরের মধ্যে ২০১৫ সালে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে। হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি সেনাবাহিনী।
বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র