ইরানের ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের পরিকল্পনায় ট্রাম্প প্রশাসন

ইরানের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন, যা তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দুজনের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্টভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি বিস্তৃত চুক্তি আগামী সপ্তাহাই চূড়ান্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কিছূ বিষয়ে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।
ইরানের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল মহলে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। চার মার্কিন বন্দি মুক্তির দিনই ইরানকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার নগদ দেওয়া হয়েছিল এবং একই দিনে একটি পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর হয়।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা শুক্রবার তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তৃতীয় দিনের বৈঠকে অংশ নেন। এদের মধ্যে একজন দেশটির ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
সূত্রগুলো জানায়, এসব আলোচনা সফল হলে এবং পাকিস্তান ইরানকে উল্লেখযোগ্য সমঝোতায় আনতে পারলে, এই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে ইসলামাবাদে।
তারা জানান, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষিত ইসরায়েল-লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একই দিনে ইরানও হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
সিএনএনকে দেওয়া দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় প্রধান অচলাবস্থার বিষয়গুলো হলো—ইরান কতদিন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখতে রাজি হবে এবং তেহরানের কাছে থাকা পারমাণবিক উপকরণ ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া কী হবে।
একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরের বিনিময়ে ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা হতে পারে। তবে একটি সূত্র জানায়, ইরান ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ অবমুক্ত এবং বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দাবি জানিয়েছে। আলোচনা এখনো চলছে এবং কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অ্যাক্সিওস প্রথম এই ২০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করার সম্ভাবনার খবর প্রকাশ করে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চলছে, তবে আমরা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আলোচনা চালাব না।’
শুক্রবার নিউজ নেশনের সঙ্গে এক ফোনালাপে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ‘সবকিছুতেই’ সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার বিষয়টিও রয়েছে। তবে একইদিন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘‘কোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ‘কোনো অর্থ লেনদেন হবে না।”
শুক্রবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকবে, তেহরান আর কখনো প্রণালিটি বন্ধ করবে না বলে সম্মত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ থেকে সব মাইন অপসারণ করা হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, ন্যাটো তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তার প্রস্তাব দিলেও তিনি তাদের ‘দূরে থাকতে’ বলেছেন।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, এসব পোস্ট দেওয়ার সময় পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে তেহরানের আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট পাচ্ছিলেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তি হলে নিজে পাকিস্তান সফরের কথাও উল্লেখ করেন। এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বিদেশ সফরে যাওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন ট্রাম্প।
তবে আলোচনা যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ওই অঞ্চলে সফরের নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ বিভিন্ন লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ থাকায় এমন সফর আদৌ সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র