ফ্রান্সজুড়ে তীব্র গণবিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১ হাজার

জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং শিক্ষা খাতের চরম সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে তীব্র গণবিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে ৪ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির প্রশাসন দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে এবং সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের অভিযোগে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ১ হাজার ৩১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্যারিস, লিয়োঁ ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। মার্সেইয়ের বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেডও স্থাপন করা হয়। তবে আগের সপ্তাহের তুলনায় এবারের বিক্ষোভের পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ। তবে আন্দোলনকারীদের কারও কারও দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ।
শনিবার প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের মূল মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর পোর্ত দি ইতালি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ান বিক্ষোভকারীরা। এ সময় ব্যারিকেড পার হওয়ার চেষ্টা এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে লাঠি ও বিভিন্ন বস্তু ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।
একটি গাড়ির শোরুমের কাচ ভাঙার চেষ্টা করেন মুখোশধারী কয়েকজন বিক্ষোভকারী। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে জানা গেছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, মার্সেইয়ের কয়েকটি স্থানে আবর্জনা জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে গত সপ্তাহান্তে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দোকানপাট, শপিং মল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে অংশ নেন।
গত সপ্তাহের বিক্ষোভে প্যারিস, লিয়োঁ ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্রান্সের বাণিজ্য ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় প্রায় ৩ হাজার দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়।
ভোরের আকাশ/আ.র