শর্ত মানলে ৭ দিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেবে ইরান : আব্বাস আরাঘচি

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে ইরানের দেওয়া ‘সাতদিনের প্রস্তাবের’ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা নতুন প্রস্তাবটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
আরাঘচি বলেন, ‘কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা তাদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে এবং আমরা এ নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কাতারিরা আজ আবারও এই পরিকল্পনা মার্কিনিদের কাছে উপস্থাপন করবে এবং আমাদের কাছে তাদের চূড়ান্ত জবাব পৌঁছে দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, কাতারিরা আশা করছেন মঙ্গলবারের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
বর্তমানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন আরাঘচি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কের শুরুতে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে আরাঘচি নিউইয়র্কে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। সরাসরি দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা না হয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চলছে।
কী আছে ‘সাতদিনের প্রস্তাবে’
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার করা এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
ইরানের দাবি, এসব শর্ত মেনে নেওয়া হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। প্রস্তাবটির বিষয়ে তেহরান এরই মধ্যে কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে বার্তা পাঠিয়েছে।
আরাঘচি এর আগে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পর ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সপ্তম দিনে পরবর্তী আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা চলার তথ্য পাওয়া গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সংশোধিত ‘সাতদিনের প্রস্তাব’ নিয়ে ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করছেন মধ্যস্থতাকারীরা।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে হরমুজের গুরুত্ব
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত।
ফলে প্রণালিটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে তেল ও গ্যাসের বাজারেও পড়ছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম টানা দ্বিতীয় সেশনে বেড়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনার ফলাফলের ওপর হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করছে। সূত্র: এএফপি
ভোরের আকাশ/সু.পা