যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের খড়্গ ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশ

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শ্রমিকদের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। খবর রয়টার্সের।
মঙ্গলবার (০২ জুন) মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, তাদের পরিচালিত সেকশন ৩০১ তদন্তে এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব আনা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, আর্জেন্টিনা ও ইন্দোনেশিয়াসহ ১৫টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। বাকি ৪৫টি দেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্কের হার প্রস্তাব করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”
নতুন এ প্রস্তাব এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপিত কিছু শুল্ক বাতিল করে দেয়। এর পর প্রশাসন নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় শুল্কব্যবস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে প্রস্তাবিত শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে জ্বালানি, বিরল খনিজ, কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক এবং বিমানযন্ত্রাংশ।
এ ছাড়া পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য বিশেষ সুবিধার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ আমদানিকৃত পণ্য কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে। এরপর ৭ জুলাই এ বিষয়ে একটি প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এ উদ্যোগ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে এবং কোনো ধরনের অব্যাহতি দেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ভোরের আকাশ/সু.পা