জাপান–ফিলিপাইনের সমুদ্র আলোচনা ঘিরে চীনের কঠোর অবস্থান

তাইওয়ানের পূর্ব জলসীমায় দেশের সবচেয়ে বড় টহল জাহাজ ‘হাইশুন ০৯’ এবং একটি বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছে চীন। জাপান ও ফিলিপাইনের মধ্যে সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন যুদ্ধজাহাজগুলো কোস্টগার্ডের মোতায়েনকৃত জাহাজগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে টহল দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত সোমবার কোস্টগার্ডের এসব জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছিল বলে রবিবার (৭ জুন) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
চীনা কোস্টগার্ডের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণকারী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট ভেসেল ইনফরমেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভেসেল ট্র্যাকিং সিস্টেমের ডেটায় দেখা গেছে, এই বহরে চীনের প্রথম ১০,০০০ টন শ্রেণির সামুদ্রিক টহল জাহাজ ‘হাইশুন ০৯’ রয়েছে।
এ ছাড়া বহরে রয়েছে ৭,৫০০ টনের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ‘হাইশুন ০৮’ এবং ৫,০০০ টনের আরও দুটি জাহাজ—সমুদ্র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হাইশুন ০৬’ ও উদ্ধারকারী জাহাজ ‘দংহাইজিউ ১১৩’।
উক্ত প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে, এই অভিযানের মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চীনের কোস্টগার্ড এবং সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ তাইওয়ান দ্বীপের পূর্ব দিকে একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ টহল পরিচালনা করবে, যা ওই সমুদ্র অঞ্চলে বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করবে।
এদিকে, কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র পিপলস ডেইলি গত রবিবার একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। এতে জাপান ও ফিলিপাইনের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, দেশ দুটি আঞ্চলিক শান্তির জন্য ‘ঝামেলার উৎস’ এবং একটি বড় ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে।
গত মাসের শেষের দিকে উভয় দেশ ঘোষণা দেয়, তারা তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড) এবং মহীসোপানের সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণের জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে। চীন আশঙ্কা করছে, এই সীমানা নির্ধারণ তাইওয়ানের জলসীমার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই বেইজিং এই আলোচনাকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই সর্বশেষ টহলকে ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, জাপান ও ফিলিপাইন একতরফাভাবে তাইওয়ানের পূর্ব জলসীমায় সামুদ্রিক সীমানা আলোচনার ঘোষণা দিয়ে চীনের সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকারকে মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে।
সিনহুয়া আরও জানায়, এই টহল একটি বিশেষ সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ অভিযান, যার উদ্দেশ্য দেশের সামুদ্রিক প্রশাসনিক এখতিয়ার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় গভীর সমুদ্রে টহল ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা জোরদার করা।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপান ও ফিলিপাইনের এই সামুদ্রিক আলোচনা বেইজিং তাইওয়ান ইস্যুতে তাদের অবস্থানের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামুদ্রিক সীমানা নিয়ে জাপান ও ফিলিপাইনের এই আলোচনাকে বেইজিং তাইওয়ানের ওপর তাদের অবস্থানের প্রতি একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।