হরমুজ নিরাপত্তায় যুক্তরাজ্যর বৃহৎ সামরিক প্রস্তুতি

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার (১২ মে) ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ভবিষ্যতে যেকোনো বহুজাতিক সামরিক মিশনের অংশ হিসেবে তারা এই অঞ্চলে ড্রোন, টাইফুন যুদ্ধবিমান এবং রয়্যাল নেভির শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস ড্রাগন’ মোতায়েন করবে।
বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের পর লন্ডন এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য এই মিশনের জন্য স্বয়ংক্রিয় মাইন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং বিশেষজ্ঞ মাইন অপসারণ দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব উন্নত প্রযুক্তি ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন করে ১১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ১৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই বিশেষ প্যাকেজের আওতায় রয়্যাল নেভির মডুলার ‘বিহাইভ’ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যেখানে স্বয়ংক্রিয় ‘ক্র্যাকেন’ ড্রোন নৌযান ব্যবহার করা হবে। এসব ড্রোন সমুদ্রপথে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত, অনুসরণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ডেস্ট্রয়ার শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস ড্রাগন’ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ শেষে ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। জাহাজটিতে থাকা উন্নত ‘সি ভাইপার’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এর পাশাপাশি অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলোকে কৌশলগত এই জলপথে আকাশ টহলের জন্য সর্বক্ষণ প্রস্তুত রাখা হবে। বর্তমানে এই অঞ্চলে এক হাজারের বেশি ব্রিটিশ সামরিক সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কাউন্টার-ড্রোন বিশেষজ্ঞ এবং দ্রুতগতির জেট স্কোয়াড্রনও রয়েছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক পরিসরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। স্বয়ংক্রিয় মাইন-হান্টিং ও কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থার জন্য এই বিপুল অর্থায়ন একটি দৃঢ় ও সুস্পষ্ট অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে পরিচালিত এই বহুজাতিক মিশন হবে প্রতিরক্ষামূলক, স্বাধীন এবং বিশ্বাসযোগ্য। এর মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে আস্থা বজায় রাখা। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে খুব শিগগিরই এই অভিযান সক্রিয় করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ভোরের আকাশ/সু.পা