এক সপ্তাহের মধ্যে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে ব্রিটেন

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সপ্তাহে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। খবরটি প্রকাশ করেছে টাইমস। তবে তিনি ঘোষণা করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফরের পর, যাতে বিষয়টি যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মূল আলোচনার বাইরে থাকে।
স্টারমার আগে জানিয়েছিলেন, ইসরায়েল যদি গাজায় চলমান সহিংসতা বন্ধ না করে এবং মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) বৈঠকের আগে যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকের আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে বিরোধ প্রকাশ করেছে, কারণ ওয়াশিংটন এখনও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি। অন্যদিকে ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো দেশও একই সময়ে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
জুলাই মাসে লেবার দলের ভেতর থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে স্টারমার জানান, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। তবে শর্তসাপেক্ষ সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। যেমন—ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়, দীর্ঘমেয়াদি শান্তির রোডম্যাপ তৈরি করে এবং জাতিসংঘকে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি দেয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব শর্ত পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের স্থল অভিযান চলমান এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান প্রথমবারের মতো গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “গাজায় যা ঘটছে, তা একটি গণহত্যা। ২০ হাজার শিশু খাদ্যাভাবে মারা গেছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আইসিজের অন্তর্বর্তী রায় ও জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনের পর এ বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।”
এর আগে জাতিসংঘের এক তদন্ত কমিশনও জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেদটিকে ‘বিকৃত ও মিথ্যা’ আখ্যা দিয়েছে।
বর্তমানে ১৯৩টি জাতিসংঘ সদস্য দেশের মধ্যে ১৪৭ দেশ ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ভোরের আকাশ // হ.র