মধ্যপ্রাচ্যের যাচ্ছে মার্কিন রণতরী জর্জ ওয়াশিংটন

মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নতুন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেশটির নৌবাহিনীর সদর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই রণতরীটি মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে প্রতিস্থাপন করবে।
ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মূলত প্রশান্ত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মোতায়েন থাকা একটি বিমানবাহী রণতরী। এর আগে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সামরিক টহলের দায়িত্বে ছিল এটি।
মার্কিন নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ভিয়েতনামের দা নাং বন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। বর্তমানে এটি প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালিতে রয়েছে। সেখান থেকে ভারত মহাসাগর হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছাবে রণতরীটি।
ওই কর্মকর্তা জানান, ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ক্রুজার ও একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজও রয়েছে।
এদিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দীর্ঘ সময়ের মোতায়েনের কারণে রণতরীটির নৌসেনাদের শারীরিক ও মানসিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থান, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং ছুটি না পাওয়ার কারণে নৌসেনাদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি জাহাজে রসদ ও কিছু কারিগরি সমস্যা নিয়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন গত বছরের ২১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো বন্দর থেকে নিয়মিত মোতায়েনের উদ্দেশে যাত্রা করে। পরে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে এর মিশন পরিবর্তন করে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। ২৬ জানুয়ারি রণতরীটির ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছে।
এরপর থেকে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। রণতরীটির সঙ্গে তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং ৬০টির বেশি বিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে।
প্রায় নয় মাস ধরে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে লিঙ্কনের নৌসেনাদের কর্মপরিবেশ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা। জুলাই মাসেও দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে নৌসেনাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর চাপের কথা উঠে আসে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে রণতরীটির কয়েকজন নৌসেনার আত্মহত্যার চেষ্টা এবং মানসিক সংকটে পড়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকজন আইনপ্রণেতা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপিত’ বলে দাবি করেছেন।
লিঙ্কনে থাকা নৌসেনাদের পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। এর মধ্যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এটি লিঙ্কনের প্রতিস্থাপন হিসেবে কাজ করবে।
তবে এই পরিবর্তনের ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাময়িকভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতিতে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। কারণ ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নৌসম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সূত্র : এবিসি নিউজ
ভোরের আকাশ/সু.পা