নাতাঞ্জের ‘পিকঅ্যাক্স’ পাহাড়ে বহু পরমাণু সমৃদ্ধকরণ সেন্ট্রিফিউজ সরিয়েছে ইরান

ইসরায়েলের দাবি, পারমাণবিক কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ সেন্ট্রিফিউজ নাতাঞ্জ এলাকার ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে নিয়েছে ইরান। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার এই মূল্যায়নের বরাত দিয়ে সোমবার (২০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর ইরান হাজার হাজার সেন্ট্রিফিউজ গভীর ভূগর্ভে স্থানান্তর করে। এর ফলে বিমান হামলায় সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালালেও পিকঅ্যাক্স স্থাপনাটি লক্ষ্যবস্তু হয়নি। গত প্রায় ১৫ মাস ধরে সেখানে ট্রাক চলাচল ও নির্মাণকাজের মতো তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, নতুন করে সরিয়ে নেয়া সেন্ট্রিফিউজগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের অন্য পারমাণবিক স্থাপনা থেকে এগুলো স্থানান্তর করা হতে পারে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এখন পর্যন্ত পিকঅ্যাক্স স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি পায়নি। ইরানও সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম চলছে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি মার্চ মাসে বলেছিলেন, ২০২১ সালে ইরান জানিয়েছিল যে তারা পিকঅ্যাক্সে পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।
কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটি ছোট পরিসরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং অস্ত্র-উপযোগী বিভাজ্য পদার্থ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে নাতাঞ্জের একটি সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন কারখানায় বিস্ফোরণের পর পিকঅ্যাক্স স্থাপনাটি নির্মাণ শুরু হয়। ওই বিস্ফোরণের পেছনে নাশকতার অভিযোগ উঠেছিল। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল স্থাপনাটি নিবিড় নজরদারিতে রেখেছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পিকঅ্যাক্সকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘পিকঅ্যাক্সের মূল প্রবেশপথে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।’ এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে বলা হয়, পিকঅ্যাক্স স্থাপনায় নিয়মিত ট্রাক চলাচল দেখা গেছে, যা সেখানে পুনর্গঠন বা নতুন কার্যক্রমের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে ইরান বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/এনএস