হরমুজ উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে চীন সফরে যাচ্ছেন আরাঘচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মঙ্গলবার (৫ মে) চীন সফরে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথবাহিনীর সঙ্গে বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় এই যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তেহরান।
আরাঘচির সফর সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবেই তিনি বেইজিং যাচ্ছেন। সফরকালে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই–এর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়া সফর করেন আরাঘচি। ধারাবাহিক এসব সফর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার চেষ্টা করছে ইরান।
প্রসঙ্গত, জেনেভায় আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। একই দিনে মিনাব শহরের শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। ঘটনাটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান সরকার।
এর প্রতিবাদে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান। পরে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় ১৩ এপ্রিল হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। পরে ট্রাম্প আরও এক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৮০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ ও ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘাতে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত এবং ২৬ জন নিহত হয়েছেন।