শিরোনাম
বৈশ্বিক পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকেরঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডির হাতে একক ক্ষমতাপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪ সমঝোতা, ২ অনুদান চুক্তি ও অভিপ্রায়পত্র সইতত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই: সালাহউদ্দিন১ সপ্তাহের মধ‍্যে গার্মেন্টস শিল্পে মজুরি বোর্ড: শ্রমমন্ত্রী‘মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই, বললে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে’ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপি অসতর্কভাবে শব্দচয়ন করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীউন্নত দেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীরবৈশ্বিক পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকেরঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডির হাতে একক ক্ষমতাপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪ সমঝোতা, ২ অনুদান চুক্তি ও অভিপ্রায়পত্র সইতত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই: সালাহউদ্দিন১ সপ্তাহের মধ‍্যে গার্মেন্টস শিল্পে মজুরি বোর্ড: শ্রমমন্ত্রী‘মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই, বললে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে’ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপি অসতর্কভাবে শব্দচয়ন করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীউন্নত দেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

যুক্তরাজ্যের তিন পারমাণবিক সাবমেরিন একসঙ্গে সমুদ্রে, প্রতিরক্ষা নীতি পরিবর্তনের বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের মোট চারটি পারমাণবিক ডেটারেন্ট সাবমেরিনের মধ্যে তিনটি একযোগে সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রথম একই সময়ে রাজকীয় নৌবাহিনীর তিনটি ভ্যানগার্ড ক্লাসের সাবমেরিন সাগরে নামলো বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস। সমুদ্রতলীয় ক্যাবল রক্ষা ও সম্ভাব্য বড় সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই বিরল পদক্ষেপ দেশটির সামরিক নীতিতে পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

পাঁচ বছরে প্রথমবার সাগরে তিন সাবমেরিন
দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সাগরে থাকা তিনটি সাবমেরিন হল এইচএমএস ভ্যানগার্ড, এইচএমএস ভিজিল্যান্ট ও এইচএমএস ভেনজেন্স। আর চতুর্থ সাবমেরিন এইচএমএস ভিক্টোরিয়াস বর্তমানে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই তিনটি সাবমেরিনের মধ্যে অন্তত একটি পারমাণবিক ওয়ারহেডবাহী দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে টহলে রয়েছে। রাজকীয় নৌবাহিনীর একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র এই মোতায়েনকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সামরিক কৌশল ও নিয়মিত টহলের প্রেক্ষাপট
নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ১৯৬৯ সাল থেকে বিরতিহীনভাবে যেকোনো একটি পারমাণবিক সাবমেরিন সবসময় সাগরে নিয়োজিত রাখে। তবে একই সঙ্গে তিনটি সাবমেরিনের সাগরে অবস্থানের ঘটনা গত পাঁচ বছরের মধ্যে আর ঘটেনি। রাজকীয় নৌবাহিনী বিষয়ক স্বাধীন প্রকাশনা নেভি লুকআউটের তথ্য অনুযায়ী, একটি সাবমেরিন সাধারণত স্থায়ী টহলে থাকে, দ্বিতীয়টি প্রথমটিকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয় এবং তৃতীয়টি সমুদ্র মহড়া বা কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের কার্যক্রমে অংশ নেয়। গত বছর এইচএমএস ভ্যানগার্ড টানা ২০০ দিন সাগরে টহল দিয়েছিল। এর আগে ২০২১ সালে এইচএমএস ভিক্টোরিয়াস রেকর্ড ২০৭ দিন সাগরে অবস্থান করেছিল।

ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ও ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ মহড়া
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র স্কাই নিউজকে জানান, ‘আমাদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা জাতীয় নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। এটি প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে যুক্তরাজ্য ও আমাদের ন্যাটোর মিত্রদের সুরক্ষা দেয়।’ একমাত্র ইউরোপীয় মিত্র হিসেবে যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক সক্ষমতা ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষার জন্য নিবেদিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি ফ্রান্সের বিমানবাহিনীর পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়েছে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর টাইফুন যুদ্ধবিমান। ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয় জানায়, মহড়ায় একটি কৃত্রিম পারমাণবিক হামলার অনুশীলনে ফরাসি বিমানকে পাহারা দেয় ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান। ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনীমন্ত্রী ক্যাথরিন ভোত্রিন জানান, স্বতন্ত্র পারমাণবিক বাহিনী থাকলেও তা পারস্পরিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয় এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তাদের পারমাণবিক সহযোগিতা ক্রমশ গভীর হচ্ছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও জানান, একটি চরম বিপজ্জনক বিশ্বে শত্রুদের মনে তাদের প্রস্তুতি নিয়ে কোনো সংশয় থাকা উচিত নয়।

এক হাজার দিনের মধ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি
এই বিরল নৌ মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং দ্য টেলিগ্রাফে এক নিবন্ধে সতর্ক করে জানান, যুক্তরাজ্যকে আগামী ১ হাজার দিনের মধ্যে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। স্ট্রিটিং লেখেন, ‘আমাদের ক্ষতি করার ক্ষেত্রে শত্রুদের মনোভাব নতুন কিছু নয়। তবে যা বদলেছে, তা হল তাদের সক্ষমতা। ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের সামরিক শক্তি ও যুদ্ধ অর্থনীতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা তাদের হামলার সক্ষমতা তৈরি করে দেবে।’

আরও পড়ুন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই: সালাহউদ্দিন

তিনি উল্লেখ করেন যে মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে লড়াই করা ও বিজয়ী হওয়ার জন্য তাদের হাতে মাত্র এক হাজার দিনের কিছু বেশি সময় রয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্য সরকার বি রেডি নামের এক জাতীয় প্রচারণা শুরু করেছে। এতে যেকোনো সম্ভাব্য সাইবার হামলা বা বড় ধরনের সংকটে অবকাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় পরিবারগুলোকে তিন দিনের শুকনা খাবার, বোতলজাত পানি, নগদ অর্থ ও রেডিও মজুত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাছাড়াও সম্প্রতি তথ্য প্রকাশ পায় যে যুক্তরাজ্যের সমুদ্রতলীয় ক্যাবল নজরদারি করতে মাছ ধরার ট্রলার ব্যবহার করছে রাশিয়া। সামগ্রিকভাবে পারমাণবিক সাবমেরিনের এই জোরালো উপস্থিতি লন্ডনের বিস্তৃত যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ বলেই মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

—আল জাজিরার প্রতিবেদন অবলম্বনে

ভোরের আকাশ/এনএস

শেয়ার করুন: