মার্কিন নির্ভরশীলতা শূন্যে আনতে চান নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া বার্ষিক প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তার ওপর ইসরায়েলের নির্ভরশীলতা আগামী দশ বছরের মধ্যে শূন্যে নামিয়ে আনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি রোববার (১০ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
নেতানিয়াহু জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তার মতে, এখনই সময় এসেছে এই সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার, যাতে আগামী এক দশকের মধ্যে এটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে ইরানের ভেতরে প্রবেশ করে সামরিক অভিযান চালিয়ে এসব উপাদান অপসারণের ইঙ্গিতও দেন তিনি।
হিজবুল্লাহ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বল হলে হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথি গোষ্ঠীর মতো সংগঠনগুলোও পতনের মুখে পড়বে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের হুমকির কারণে কয়েকটি আরব দেশ এখন ইসরায়েলের সঙ্গে জোট গঠনে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী।
সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার যুদ্ধে ইসরায়েল পিছিয়ে আছে। তার অভিযোগ, কিছু দেশ পরিকল্পিতভাবে অনলাইনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে, যার প্রভাব বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পড়ছে।
গাজায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাকে তিনি অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গাজা সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত হামাসকে আর কোনোভাবেই হুমকি হিসেবে থাকতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে পারস্য উপসাগরে কথিত ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। এতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক জোটনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ।
ভোরের আকাশ/সু.পা