জার্মানিতে রাশিয়ার সন্দেহভাজন গুপ্তচর গ্রেপ্তার

জার্মানির ব্র্যান্ডেনবার্গে রাশিয়ার পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে একজন ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ফেডারেল পাবলিক প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিয়মিত রাশিয়ার একটি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিল। মস্কোর ক্রমবর্ধমান গুপ্ত হামলা মোকাবেলায় জার্মানি তার নিরাপত্তা আরো জোরদার করেছে, যাকে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বর্তমানে তার দেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মনে করেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মান গোপনীয়তা আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আংশিকভাবে ‘ভাদিম ওয়াই’ বলে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ভাদিম ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন।
তিনি ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোতে নিজের যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে জার্মানি থেকে ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। তার পাচার করা তথ্যের মধ্যে ছিল—সাঁজোয়া যান, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক তৈরির বিস্তারিত বিবরণ।
এছাড়াও ন্যাটোর পূর্ব সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে নিয়োজিত সামরিক কর্মী এবং বিভিন্ন ঘাঁটির অবস্থান সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রসিকিউটররা আরো জানিয়েছেন, এই গুপ্তচর যে তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছিলেন তার কিছু অংশ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত বা ইন্টারনেটে পাওয়া যেত।
তবে বাকি সংবেদনশীল তথ্যগুলো তিনি ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানায় কর্মরত ব্যক্তিদের কাছ থেকে গোপনে জোগাড় করেছিলেন।
এই বিষয়ে বার্লিনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস মন্তব্যের অনুরোধে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
বার্লিনের পূর্বে ব্র্যান্ডেনবার্গ রাজ্যের ওডার-স্প্রি জেলা থেকে জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার (বিএফভি) তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রুশ গুপ্তচর গ্রেফতারে পর জার্মান চ্যান্সেলর মের্জ বলেছেন, এই গ্রেফতারে মোটেও অবাক নই এবং ভবিষ্যতে এমন আরো ঘটনার মুখোমুখি হতে পারে জার্মানি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউরোপজুড়ে নাশকতামূলক ও সাইবার হামলা বৃদ্ধির আশঙ্কায় জার্মানি উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
অভিযুক্ত ভাদিমকে আগামীকাল শুক্রবার ফেডারেল কোর্টের বিচারকের সামনে হাজির করা হবে, যেখানে তার জামিন নামঞ্জুর করে প্রাক-বিচার আটকাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/এম