কঙ্গো থেকে ৪ দেশে ছড়িয়েছে ইবোলা

কঙ্গোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাস এখন আফ্রিকার আরো কয়েকটি দেশে শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত চারটি দেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে দুটি দেশে সংক্রমণ সক্রিয় রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, এটি ইতিহাসের দ্রুততম বিস্তারের ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোর একটি। আফ্রিকার মধ্য, পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার নাইজেরিয়ায় সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর দেশটি এ প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত সর্বশেষ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে পূর্ব কঙ্গোতে প্রথম এ প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অন্তত ৪ হাজার ৬০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে রোগ শনাক্তে দেরি হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের শরীরে লক্ষণ দেখা দেওয়ার বেশ কিছু সময় পর তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ ভ্রমণের পর আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত রোগী শনাক্ত করা, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা লোকজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা এবং সীমান্তসহ বিভিন্ন স্থানে নজরদারি জোরদার করা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় উগান্ডা থেকে আসা এক নারীর শরীরে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ওই নারীর শরীরে গত ৭ অক্টোবর থেকে রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।
পরে ১১ অক্টোবর তাকে আবুজার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষার পর তার ইবোলা সংক্রমণ ধরা পড়ে।
তবে তিনি ঠিক কবে নাইজেরিয়ায় এসেছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ পাতে জানিয়েছেন, ওই নারীর সংস্পর্শে আসা ৪৪ জনকে শনাক্ত করার কাজ চলছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কঙ্গোতে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার খবরের একই দিনে উগান্ডায়ও এ রোগের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। কঙ্গো থেকে আসা এক ব্যক্তির শরীরে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উগান্ডায় প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তিরা ছিলেন কঙ্গোর নাগরিক। ইবোলায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানার আগেই তারা অজ্ঞাত একটি রোগের চিকিৎসা নিতে সীমান্ত পেরিয়ে উগান্ডায় গিয়েছিলেন। উগান্ডায় এ পর্যন্ত ইবোলায় ২০ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে বর্তমানে দেশটিতে কোনো সক্রিয় সংক্রমণ নেই বলে জানানো হয়েছে।
গত ২৭ আগস্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) উগান্ডায় ইবোলার প্রাদুর্ভাব শেষ হওয়ার ঘোষণা দেয়। দেশটিতে মোট ২০ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন সুস্থ হন এবং দুজন মারা যান। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ জন কঙ্গোর নাগরিক ছিলেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ৮০০ জনেরও বেশি মানুষকে শনাক্ত করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।
মঙ্গলবার উগান্ডা জানিয়েছে, দেশটিতে নতুন করে আর কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।
গত ৬ অক্টোবর কেনিয়ায় প্রথম ইবোলা রোগী শনাক্তের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তি কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে ৩ অক্টোবর রাজধানী নাইরোবিতে পৌঁছান। ৫ অক্টোবর তার ইবোলা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। ওই দিনই তার মৃত্যু হয়। পরে কেনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে নয়জনে দাঁড়ায়। তাদের মধ্যে প্রথম রোগীর চারজন স্বজন ও চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা আরো ১৩৫ জনকে শনাক্ত করেছে। তাদের মধ্যে ১৩৪ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। কেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম রোগীর পরিচিত সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের বাইরে অন্য কারও মধ্যে সংক্রমণের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। আফ্রিকার বাইরে ফ্রান্সেই এ প্রাদুর্ভাবের একমাত্র রোগী শনাক্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
গত জুনে কঙ্গো থেকে ফেরা এক চিকিৎসকের শরীরে ইবোলা শনাক্ত করে ফ্রান্স। ওই চিকিৎসক কঙ্গোর সংক্রমণপ্রবণ এলাকায় একটি মানবিক সহায়তা মিশনে কাজ করেছিলেন। পরে তাকে ফ্রান্সের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং গত ৪ জুলাই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।
ভোরের আকাশ/ইউএম