শিরোনাম
কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে প্রযুক্তির বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রীসাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি, সাইবার সুরক্ষা আইনে যুক্ত হচ্ছে বিধানসাভার-আশুলিয়ায় ২০০ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণাসিটি গ্রুপকে নতুন ঋণ দিতে ব্যাংক-কোম্পানি আইনে ছাড়, মিলবে ১,৭০০ কোটি টাকার ঋণআঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ : রিজভীপোশাকশিল্পে চলমান সহিংসতার নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীএবার শীতে ৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাসপাহাড়ে ‘বিচার’, জঙ্গলে পড়ে রইলো দুই জনের লাশকৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে প্রযুক্তির বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রীসাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি, সাইবার সুরক্ষা আইনে যুক্ত হচ্ছে বিধানসাভার-আশুলিয়ায় ২০০ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণাসিটি গ্রুপকে নতুন ঋণ দিতে ব্যাংক-কোম্পানি আইনে ছাড়, মিলবে ১,৭০০ কোটি টাকার ঋণআঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ : রিজভীপোশাকশিল্পে চলমান সহিংসতার নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীএবার শীতে ৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাসপাহাড়ে ‘বিচার’, জঙ্গলে পড়ে রইলো দুই জনের লাশ

ট্রাম্পের হাতে ২ মাস, ‘অপমানে’ বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা তৈরি হয়েছে। বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদের পর এই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের কোনো কক্ষেই নিজের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছেন না।

১০০ সদস্যের সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪। আরও দুটি আসনে এগিয়ে রয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসন নিশ্চিত করেছে তারা। যদিও কয়েকটি আসনের ফল এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

নির্বাচনের ফলকে ট্রাম্পের জন্য পরাজয় হিসেবে দেখছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। এমনকি ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, বিরোধীরা নির্বাচনী প্রচারে তাদের চেয়ে ভালো করেছে।

নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নেবে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাবে এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনবে। তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কী করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা?

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই কক্ষ—সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—আইন প্রণয়ন এবং সরকারি ব্যয় অনুমোদনের দায়িত্ব পালন করে। তবে কোনো একটি কক্ষ এককভাবে আইন পাস করতে পারে না। দুই কক্ষেরই আলাদা কিছু ক্ষমতা রয়েছে।

সিনেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হলো প্রেসিডেন্টের উচ্চপর্যায়ের নিয়োগ অনুমোদন করা। ফলে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের পছন্দের রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং ফেডারেল বিচারক নিয়োগ আটকে দিতে পারবে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করতে পারবে তারা।

এ ছাড়া সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণ পায়। এসব কমিটির মাধ্যমে তদন্ত শুরু করা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করা এবং সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির করার ক্ষমতা রয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদ কোনো প্রেসিডেন্ট বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। এরপর সিনেটে বিচার হয়। সেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে পদ থেকে অপসারণের সুযোগ রয়েছে।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৯ ও ২০২১ সালে দুবার অভিশংসিত হয়েছিলেন। তবে দুইবারই সিনেটে তিনি দায়মুক্তি পান।

আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ডেমোক্র্যাটদের বাড়তি ক্ষমতা দেবে। কোনো বিল আইনে পরিণত হতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন।

তবে এখানেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন ট্রাম্প। তিনি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটদের আনা কোনো বিল সহজে অনুমোদন করবেন না। সোমবার একটি পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘আমি সবকিছুতে ভেটো দেব।’

প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের কিছু রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থনও আদায় করতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনকে কি জবাবদিহির আওতায় আনতে পারবে?

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক লরা ব্লেসিং মনে করেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা তদন্তের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করবে।

তিনি আলজাজিরাকে বলেন, সময় ব্যয় এবং সংবাদপত্রের শিরোনামের বিচারে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখা যাবে তদন্তের ক্ষেত্রেই।

বর্তমানে সিনেটের স্থায়ী তদন্তবিষয়ক উপকমিটিতে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ সদস্য রিচার্ড ব্লুমেনথাল। নির্বাচনের পর তিনি ওই কমিটির চেয়ারম্যান হতে পারেন।

নির্বাচনের আগে সেপ্টেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ব্লুমেনথাল বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগাবে। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই সমন জারির ক্ষমতা ব্যবহার করবো।

হোয়াইট হাউজের অনুমতি ছাড়াই কংগ্রেস এসব তদন্ত চালাতে পারে। এতে ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। গত দুই বছরে ট্রাম্পের পরিবার ক্রিপ্টোকারেন্সি, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ভবিষ্যৎভিত্তিক বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছর প্রকাশিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ আনুমানিক ২২০ কোটি ডলার বেড়েছে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটররা এরই মধ্যে সম্ভাব্য তদন্তের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। বিভিন্ন কোম্পানি ও সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন তারা।

ট্রাম্পের জন্য হোয়াইট হাউজে বলরুম নির্মাণে ব্যক্তিগত অনুদান সংগ্রহ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তদন্ত পরিচালনার অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয় এসব চিঠিতে উঠে এসেছে।

তবে তদন্তে সবাই সহযোগিতা করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা আদালতে সমন জারির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। এতে তদন্ত কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে।

লরা ব্লেসিং মনে করেন, ট্রাম্পের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা তদন্তে হাজির না হলেও সরকারি কর্মকর্তা এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব।

এসব তদন্তে ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের সম্ভাব্য অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। তবে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলেও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত নয়। ডেমোক্র্যাটরা সম্ভাব্য অপরাধের তথ্য প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠাতে পারবে। কিন্তু ট্রাম্পের অধীন বিচার বিভাগ অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করবে কি না, তা তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

অভিশংসনের উদ্যোগও নেওয়া সম্ভব। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পদ থেকে সরানো যায়নি।

এ কারণে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তে কতটা সময় ব্যয় করা উচিত এবং ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো সরাসরি সমস্যাগুলোতে কতটা মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেলডন হোয়াইটহাউস বলেন, তদন্তের ক্ষেত্রে সতর্ক ও কৌশলী হতে হবে। তদন্ত যেন সাধারণ আমেরিকান পরিবারের তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

ইরান যুদ্ধ বন্ধে কী ভূমিকা রাখতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা?

আগামী ৩ জানুয়ারি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাবে। ফলে এর আগের দুই মাস যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকেরা।

কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি আশঙ্কা করছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটরা দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ইরানে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন।

তার মতে, অপমান বা পরাজয়ের মুখে ট্রাম্পের আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠার প্রবণতা রয়েছে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটদের প্রথম কাজ হতে পারে ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করা। এ জন্য ইরান যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ বা সীমিত করার উদ্যোগ নিতে পারে তারা।

ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে সামরিক অভিযানের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় করতে পারবে।

ত্রিতা পারসি বলেন, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সময়সীমা সীমিত করার সুযোগ তৈরি হবে। কারণ, নতুন করে যুদ্ধের জন্য বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে, যা অন্য খাত থেকে সহজে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

তবে বাজেটসংক্রান্ত কোনো বিল পাস করাতেও ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভেটোর বাধা রয়েছে। এ ছাড়া সামরিক ব্যয় কমানোর বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা কতটা ঐক্যবদ্ধ হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

লরা ব্লেসিংয়ের মতে, মার্কিন সেনাদের ক্ষতি করার অভিযোগ উঠতে পারে—এমন আশঙ্কায় ডেমোক্র্যাটরা ঐতিহাসিকভাবেই সামরিক খাতে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করতে অনীহা দেখিয়ে এসেছে।

তবে যুদ্ধ বন্ধে চাপ তৈরির অন্য পথও রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তদন্ত করতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক হামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইন মেনেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পারে।

স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা প্রজেক্ট অন গভর্নমেন্ট ওভারসাইটের নীতিবিশ্লেষক ডেভিড জানোভস্কি বলেন, কঠোর নজরদারি নিজে থেকে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে পারবে না। তবে এর ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক মূল্য এতটাই বেড়ে যেতে পারে যে প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হবেন।

যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগে ডেমোক্র্যাটরা শেষ পর্যন্ত কতটা ঐক্যবদ্ধ হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ত্রিতা পারসির সতর্কবার্তা, ডেমোক্র্যাটরা যদি ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা না করে, তাহলে রাজনৈতিকভাবে তারাও দায় এড়াতে পারবে না।

তিনি বলেন, এটি তখন আর শুধু ট্রাম্পের যুদ্ধ থাকবে না। তারাও এর অংশীদার হয়ে যাবে, কারণ যুদ্ধ বন্ধের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা নিষ্ক্রিয় থাকবে।

জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কী করতে পারবে তারা?

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে অর্থনৈতিক সমস্যা ছিল অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। তাই জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।

সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চের সহপ্রতিষ্ঠাতা অর্থনীতিবিদ ডিন বেকারের মতে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে ইরান যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে। বিশ্বে জ্বালানি ও সার পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ও বাড়ছে।

বেকারের মতে, যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সিনেটে তদন্ত শুরু হলে যুদ্ধ বন্ধের রাজনৈতিক চাপ বাড়বে। এর ফলে পেট্রল বা জ্বালানি তেলের দাম কমতে পারে এবং পরিবারের ব্যয়ের ওপর চাপ কিছুটা কমবে।

স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর উদ্যোগও নিতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। ২০২৫ সালে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের বাড়তি ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অনেক মার্কিন নাগরিককে স্বাস্থ্যবিমার জন্য বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা ওই ভর্তুকি পুনর্বহাল এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি মেডিকেইডে কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত বাতিলের চেষ্টা করতে পারে।

বেকার বলেন, সরকারি ব্যয় নিয়ে আলোচনার সময় রিপাবলিকানদের এসব পদক্ষেপে সম্মত হতে চাপ দিতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। জনসমর্থন থাকায় স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর উদ্যোগে ট্রাম্পের ভেটো দেওয়া রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে।

এ ছাড়া ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক প্রত্যাহারের উদ্যোগও নিতে পারে দলটি। তবে এ জন্য প্রতিনিধি পরিষদের সমর্থনের পাশাপাশি ট্রাম্পের অনুমোদন অথবা তার ভেটো বাতিল করার মতো পর্যাপ্ত ভোট প্রয়োজন হবে।

অবশ্য শুল্ক প্রত্যাহার করা গেলেও পণ্যের দাম রাতারাতি কমবে না। গ্রাউন্ডওয়ার্ক কোলাবোরেটিভের নীতিবিষয়ক প্রধান অ্যালেক্স জ্যাকুয়েজ বলেন, পণ্যের দাম রকেটের মতো দ্রুত বাড়ে, কিন্তু পালকের মতো ধীরে কমে।

এদিকে ট্রাম্পের অনুমোদন ছাড়াও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে একটি পথ রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সামনে। সিনেটের বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে নিত্যপণ্যের দাম, বাড়িভাড়া এবং বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারে তারা।

জ্যাকুয়েজের মতে, কংগ্রেসের কমিটির নেতৃত্ব হাতে থাকলে এবং প্রধান নির্বাহীদের তলব করার ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারলে বাস্তব কিছু পরিবর্তন আনা সম্ভব।

আরও পড়ুন

সৌদি রুটে ১৭৪ ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত

সব মিলিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজরদারি ও রাজনৈতিক চাপ বাড়বে। তবে আইন পাস, ইরান যুদ্ধ বন্ধ কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বড় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রেসিডেন্টের ভেটো এবং দুই দলের রাজনৈতিক বিরোধ বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

ভোরের আকাশ/এনএস

শেয়ার করুন: