যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মধ্যেই ইরানে নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলা বা সামরিক অভিযানের হুমকির মুখে সাধারণ নাগরিকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে ইরান। রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানী তেহরানের তিনটি বৃহৎ সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
রাষ্ট্র সমর্থিত ‘জানফাদা’ কর্মসূচির আওতায় বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানুষের প্রস্তুতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।
রোববার (৪ অক্টোবর) তেহরানের তিনটি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ইরানের পশ্চিম এশিয়া নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর স্থল, বিমান, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা এ চার শাখার সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিভাগের উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আরিয়ান নেজাদ জানিয়েছেন, প্রথমে তাদের মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে অংশগ্রহণকারীদের আরও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে, ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কর্মসূচির জন্য তেহরানে সেনাবাহিনীর তিনটি বড় প্রশিক্ষণকেন্দ্র বরাদ্দ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
এ উদ্যোগের পেছনে ইরানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ভূমিকা রাখছে। গত সেপ্টেম্বরে ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তেহরান তখন সতর্ক করে বলেছিল, হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্বার্থে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
এমন পরিস্থিতিতে জানফাদা কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এর আওতায় ১ হাজার জাতীয় প্রতিরোধ ব্যাটালিয়ন গঠন ও প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বাসিজ বাহিনীও এ কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে।
জানফাদা শব্দের অর্থ ‘জীবন উৎসর্গকারীরা’। আইআরজিসি ও বাসিজ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত এ কর্মসূচির প্রথম প্রশিক্ষণকেন্দ্র গত সেপ্টেম্বরে তেহরানে চালু হয়। সেখানে সামরিক প্রস্তুতি, স্থানীয় নিরাপত্তা, উদ্ধারকাজ, নজরদারি, নিশানাবাজি ও অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তেহরানে জানফাদা কর্মসূচির একটি বড় সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
একই সঙ্গে, স্বেচ্ছাসেবকদের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ইউনিট ও ব্যাটালিয়নে সংগঠিত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র