নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ২০

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় তারাবা রাজ্যের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জুমার নামাজের পরপরই তারাবা রাজ্যের প্রত্যন্ত 'বিন্নারি' গ্রামে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজের পরপরই তারাবা রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রাম বিন্নারিতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। এসময় তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে জিহাদি বিদ্রোহীদের সহিংসতায় আক্রান্ত। তবে দেশটির মধ্যাঞ্চলের দিকে অবস্থিত তারাবা রাজ্যে মতাদর্শভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ ডাকাত দলগুলোর তৎপরতাও রয়েছে।
নাইজেরিয়ার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় এসব সশস্ত্র দল গ্রামে হামলা চালিয়ে আসছে। তারা মুক্তিপণের জন্য মানুষকে অপহরণ করে এবং কৃষক ও খনিশ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করে। এসব এলাকায় সরকারি উপস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় সশস্ত্র দলগুলো সহজেই তৎপরতা চালানোর সুযোগ পায়।
বিন্নারি গ্রামের বাসিন্দা ইসিয়াকু মুসা বলেন, ‘হামলা থেকে বাঁচতে মানুষ চারদিকে ছুটে পালাচ্ছিল। কেউ জানত না, কোথায় গেলে নিরাপদ থাকা যাবে।’
মুসা ও সাইদু নুহু– দুজনই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
নুহু বলেন, ‘হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আমরা ২০টির বেশি মরদেহ গুনেছি। তখনো কয়েকজন নিখোঁজ ছিলেন।’
তবে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা তুলনামূলক কম। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে শনিবার নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো রাজ্যে বিমান হামলা চালিয়ে ১৫ জন ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করা হয়েছে।
নাইজেরিয়ায় ২০০৯ সালে বোকো হারামের বিদ্রোহ শুরুর পর থেকে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে জিহাদি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে।
ভোরের আকাশ/আ.র